সিলেটের দর্শনীয় স্থান সমূহ – সিলেটের কিছু দর্শনীয় স্থান

সিলেটের দর্শনীয় স্থান সমূহ – সিলেটের কিছু দর্শনীয় স্থান – প্রকৃতিকন্যা সিলেটের রয়েছে অপরুপ সৌন্দর্য। হাওর-নদী-পাহাড়ের সিলেটে আছে অরূপ অরণ্যানীও। দেখতে গেলে চোখ জুড়িয়ে দেবে সবুজ চা-বাগান। পাশাপাশি আরও এমন জায়গা আছে যেগুলো দেখলে আপনার প্রাণ জুড়িয়ে যাবে।

অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ সিলেট। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এই প্রাচীন জনপদ বনজ, খনিজ ও মৎস্য সম্পদে ভরপুর এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এ সিলেট জেলা।

সিলেটে বসবাসকারী বিভিন্ন আদিবাসীদের মধ্যে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি। সিলেটে আদিবাসীদের মধ্যে মনিপুরী সম্প্রদায়ের মনিপুরী নাচ বিখ্যাত। চা-বাগান, জাফলং, রাতারগুল জলাবন, হাকালুকি হাওর, লালাখাল, ভোলাগঞ্জ, বিছানাকান্দি, তামাবিল, পাহাড়, ঝরনা সব মিলিয়ে নানা বৈচিত্র্যের সম্ভার এই সিলেট দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী।

অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ছাড়াও সিলেটের রয়েছে প্রসিদ্ধ ইতিহাস। প্রকৃতির অনাবিল সৌন্দর্য, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, চা-বাগান, বিভিন্ন রিসোর্ট, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরাণ (রহ.) এর মাজারসহ সিলেটে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান থাকায় সিলেটকে দেশের অন্যতম সেরা পর্যটন নগরী বলা যেতেই পারে।

(toc) #title=(Table of Content)

সিলেটের দর্শনীয় স্থান সমূহ

সিলেটের দর্শনীয় স্থান সমূহ

সিলেটের দর্শনীয় স্থান সমূহ – সিলেটের কিছু দর্শনীয় স্থান সমুহ নিচে ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হয়েছেঃ

১। জাফলং

সিলেটে আসলে সর্বপ্রথম আপনার যাওয়া উচিত সিলেটের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য জাফলং এ। সিলেটে ঘুরতে আসবেন আর জাফলং ঘুরতে যাবেন না সেটা একপ্রকার অসম্ভব। জাফলং এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ব্যাখ্যা দিতে গেলে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ফুরিয়ে যাবে তাও শেষ হবে না। জাফলং এর থেকে জাফলং এ যাওয়ার রাস্তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে বেশি মুগ্ধ করবে।

অবস্থানঃ জাফলং এর অবস্থান সিলেট থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে গোয়াইনঘাট উপজেলায়। তমাবিল সীমান্তের ঠিক পাশে অবস্থিত জাফলং। জাফলং গেলে সামনেই দেখতে পারবেন ভারতের মেঘালয় ও ডাউকি শহর।

(ads)

যেভাবে যাবেনঃ সিলেট থেকে জাফলং যেতে সর্বোচ্চ দুই থেকে আড়াই ঘন্টা সময় লাগে। সিলেট থেকে লোকাল বাসে করে বা সিএনজি নিয়ে অথবা প্রাইভেট কার ভাড়া করে জাফলং যেতে পারেন।

মূল আকর্ষণঃ জাফলং এর মূল আকর্ষণ হচ্ছে মেঘালয়ের মেঘের কোল থেকে নেমে আসা পাহাড় সেই সাথে স্বচ্ছ ঠান্ডা পানির পিয়াইন নদী। নদীর তলদেশে আছে সুন্দর লাল, সাদা, কালো, ধূসর পাথর। এছাড়াও আছে জিরো পয়েন্ট, ঝুলন্ত ব্রিজ, স্থানীয় পাথরের সামগ্রী, পিকনিক স্পট ,খাসিয়া পল্লী এবং একই সাথে নদী আর পাহাড়ের এক অপরূপ সম্মিলন।

আরো পড়ুনঃ বন্ধুদের সাথে ঘুরাঘুরি স্ট্যাটাস এবং বন্ধুদের সাথে ভ্রমণ নিয়ে ক্যাপশন

২। রাতারগুল

সিলেটের সুন্দরবন নাম খ্যাত রাতারগুল। রাতারগুল বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট হিসেবে সুপরিচিত। দেশের একমাত্র মিঠা পানির এই জলা বনে খুঁজে পাওয়া যায় উদ্ভিদ ও প্রাণীর বৈচিত্র্যময় অবস্থান। নৌকা ভ্রমণের মধ্য দিয়ে এই আশ্চর্য প্রকৃতিকে একদম কাছ থেকে দেখতে পাবেন। রাতারগুলের এই বোন আপনাকে বেঁধে রাখবে প্রকৃতির মায়াবী সৌন্দর্যের বাঁধনে।

অবস্থান: রাতারগুল সিলেট থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গোয়ানঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নে। রাতারগুলের সাথেই রয়েছে গোয়াইন নদী এই নদী থেকে উৎপন্ন চ্যানেল রাতারগুলের মধ্যে দিয়ে মিশেছে চেঙ্গির খালে।

(ads)

যেভাবে যাবেন: রাতারগুল যাওয়ার সবচাইতে সহজ উপায় হচ্ছে সিলেট শহর থেকে লোকাল সিএনজি চালিত অটোরিকশা বা প্রাইভেটকার রিজার্ভ করে। সিলেট থেকে এয়ারপোর্ট বাইপাস হয়ে মাত্র এক থেকে দেড় ঘন্টায় চলে যেতে পারেন রাতারগুল। গাড়িতে গিয়ে মটর ঘাট নামবেন। সেখান থেকে ভাড়া করতে হয় নৌকা। এই নৌকায় আপনাকে নিয়ে যাবে গহীন বনে একদম প্রকৃতির কাছে।

মূল আকর্ষণ: বাংলাদেশের একমাত্র রাতারগুলেই পাওয়া যায় বন্য কাঠগোল। দেখা মিলবে আরো নানা বিরল প্রজাতির উদ্ভিদের। নৌকা ভ্রমণের সময় আপনার চোখে পড়বে, বানর কাঠবিড়ালি সাপ সজারু ও নানা প্রজাতির পাখির। রাতারগুলের আশেপাশে হোটেল বা থাকার তেমন ব্যবস্থা নেই। তাই চেষ্টা করবেন একদিনেই ঘুরে আসতে।

আরো পড়ুনঃ ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগীর খাবার তালিকা

Read more

দুবাই ১ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা

পৃথিবীর অন্যতম আকাশচুম্বী ভবন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য দুবাই বেশ পরিচিত। দুবাইয়ের আকাশচুম্বী ভবন এবং বিলাসবহুল জীবনের কারণে এটি পরিচিত হলেও, দীর্ঘদিন ধরে পর্যটক এবং প্রবাসীদের জন্য এটি একটি অন্যতম গন্তব্য। আর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

আর এর ফলস্বরূপ দুবাইয়ের মুদ্রা এবং বাংলাদেশী টাকায় আন্তর্জাতিক এই মুদ্রার বিনিময় হার জানা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এছাড়াও, এই মুহূর্তে যারা প্রবাসী এবং যারা দুবাই থেকে বাংলাদেশের রেমিটেন্স পাঠাতে চাচ্ছেন, তারা ও জানতে চান যে, দুবাই ১ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা।

যদি আপনার কোন আত্মীয় এই মুহূর্তে দুবাইয়ে থাকে অথবা দুবাই থেকে কেউ যদি বাংলাদেশে টাকা পাঠাতে চায়, তাহলে ও আপনার জন্য দুবাই এক টাকা বাংলাদেশের কত টাকা হবে, ‌এটি জানা জরুরী। আর দুবাই থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর জন্য আজকের দুবাইয়ের ১ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা হবে, এটি সম্পর্কে আপনার জানতে হবে।

{tocify} $title={Table of Contents}

দুবাই ১ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা

দুবাইয়ের মুদ্রা এবং বাংলাদেশের টাকার পার্থক্য

দুবাইয়ের মুদ্রার নাম দিরহাম এবং বাংলাদেশের মুদ্রার নাম টাকা। স্বাভাবিকভাবে, দুবাইয়ের মুদ্রা দিরহামের দাম প্রতিনিয়ত উঠানামা করে। এক্ষেত্রে, আপনি যদি বাংলাদেশী টাকার মতো করে দুবাইয়ের টাকার হিসাব করেন, তাহলে দুবাইয়ের এক টাকা এবং বাংলাদেশের টাকার মধ্যে প্রতিদিন সামান্য কিছু দামের পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

দুবাইয়ের দিরহাম এর দাম এবং একই সাথে অন্যান্য দেশের মুদ্রার বিনিময় হার অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অবস্থা, ভূ রাজনৈতিক অবস্থা, সরকারি নীতি এবং দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা গুলোর কারণে দিরহামের দাম ওঠানামা করতে পারে। তবে, দুবাইয়ের দিরহামের দাম বাংলাদেশি টাকায় প্রতিদিন পরিবর্তন হলেও, একটি নির্দিষ্ট অংকের মধ্যে সেটি সীমাবদ্ধ থাকে। 

দুবাই টাকার রেট প্রতিদিন কয়েক পয়সা করে উঠানামা করলেও একটি নির্দিষ্ট টাকায় সেটি স্টেবল থাকে। বর্তমানে দুবাইয়ের ১ দিরহাম = ২৯.৪৫ টাকা। এটা হচ্ছে বর্তমানে দুবাইয়ের এক দিরহামে বাংলাদেশি টাকার রেট। তবে, দিরহামের এই রেট সময় অনুযায়ী পরিবর্তিত হওয়া হতে পারে। কিন্তু সময় অনুযায়ী দুবাইয়ের টাকার রেট পরিবর্তন হলেও বাংলাদেশের টাকায় সেটি খুব বেশি পরিবর্তন হয় না এবং এটি একটি নির্দিষ্ট টাকার মধ্যে উঠানামা করে।

আরো পড়ুনঃ ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়

আজকের দুবাই টাকার রেট

আজকের হিসাব অনুযায়ী দুবাইয়ের এক টাকা সমান বাংলাদেশের 29 টাকা 45 পয়সা। আর এটি লক্ষণীয় যে, এই বিনিময়ে হার স্থির নয় এবং এটি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হতে পারে। প্রতিদিন দুবাই টাকার রেট কয়েক পয়সা থেকে কয়েক টাকা পর্যন্ত উঠানামা করতে পারে। বাংলাদেশী টাকায় দুবাই টাকার রেট উঠানামা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থার উপর নির্ভর করে। 

এছাড়াও, আরো বেশ কিছু কারণে দুবাই টাকার রেট সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। যাই হোক, সাধারণভাবে দুবাই ১ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা এটি কাউকে বলতে চাই, তাহলে দুবাই এক টাকা বাংলাদেশের প্রায় ৩০ টাকা।

দুবাইয়ের আজকের টাকার রেট জানবেন কীভাবে?

দুবাইয়ের আজকের টাকার রেট ১ দিরহাম = ২৯.৪৫ টাকা। তবে, দুবাই টাকার এই প্রতিদিন কিন্তু সমান থাকবে না। তাহলে, আপনি কিভাবে প্রতিদিনের দুবাই টাকার রেট জানবেন?

আপনি যদি আজকের দুবাই টাকার রেট জানতে চান, তাহলে আপনাকে গুগলে “দুবাই টাকা টু বাংলাদেশ টাকা” লিখে সার্চ করতে হবে। আপনি এটি বাংলা অথবা ইংরেজিতে লিখে সার্চ করতে পারেন। এটি লিখে সার্চ করার পর গুগলের প্রথম পেজেই আজকে দুবাইয়ের ১ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা, এটি দেখতে পাবেন। এখন আপনি দুবাইয়ের টাকা হিসেবে দিরহাম লিখে দিলেই, সেই অনুযায়ী আজকের দুবাই দিনার বাংলাদেশি টাকায় কত টাকা হবে জানতে পারবেন। 

আপনি যদি দুবাই টাকার আজকের রেট জানার জন্য সার্চ করে থাকেন, তাহলে আজকের বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুযায়ী দুবাই টাকার জন্য কত রেট দেওয়া হচ্ছে সেটি লাইভ দেখে নিতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ সকল বীমা কোম্পানির তালিকা | বাংলাদেশের বীমা কোম্পানির নাম

দুবাইয়ের ১ দিরহাম সমান কত টাকা

আজকের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দুবাইয়ের ১ দিরহাম সমান 29 টাকা 45 পয়সা। যদিও, বর্তমানের দুবাই দিরহামের এই রেট প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। দুবাইয়ের এক দিরহাম এ বাংলাদেশি টাকায় সাধারণত ৩০ টাকার মধ্যে থাকে। অর্থাৎ, দুবাইয়ের এক দিরহাম সমান বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০ টাকা। 

আর আপনি যদি বিকাশ অথবা ব্যাংকের মাধ্যমে দুবাই থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠান, তাহলে দুবাইয়ের ১ দিরহাম এর সাথে ২.৫% অতিরিক্ত টাকা যুক্ত হয়ে আপনার একাউন্টে ঢুকবে। অর্থাৎ, আপনি যদি দুবাই থেকে বাংলাদেশে ১০০ দিরহাম পাঠান, তাহলে আজকের দুবাই দিরহাম রেট অনুযায়ী, আপনার ২৯৪৫ টাকার সাথে অতিরিক্ত ২.৫% যুক্ত হয়ে ৩০১৮ টাকা পাবেন। সেক্ষেত্রে, দুবাইয়ের এক দিরহাম সমান বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০ টাকার মতো হচ্ছে।

আরো পড়ুনঃ মোবাইল ভাইরাস মুক্ত রাখার উপায়

দুবাই টাকার রেট বাংলাদেশি টাকায় কখন প্রভাবিত হয়

Read more

অলিম্পিক গেমসের ইতিহাস?

অলিম্পিক গেমসের ইতিহাস? — 776 খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রাচীন গ্রিক শহর অলিম্পিয়াতে অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই গেমগুলি পরে রোমের সম্রাট থিওডোসিয়াস নিষিদ্ধ করেছিলেন। 1896 খ্রিস্টাব্দে গ্রীসের এথেন্স শহরে আধুনিক অলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। ফ্রান্সের ব্যারো পিয়েরে ডি কুবের্টিন নামে একজন ব্যক্তিকে এই গেমগুলির পুন সংগঠনের কৃতিত্ব দেওয়া হয়। প্রথম অলিম্পিকে নারীরা অংশগ্রহণ করেনি, কিন্তু পরবর্তী প্যারিস অলিম্পিকেও নারীরা অংশগ্রহণ করেছিল।

অলিম্পিক গেমসের ইতিহাস?

1950 -এর দশকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে অলিম্পিক সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অলিম্পিক গেমস প্রতিটি দেশের জন্য তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের একটি মাধ্যম হয়ে ওঠে। 1980 সালে, আমেরিকা এবং তার মিত্ররা অলিম্পিক বর্জন করেছিল এবং 1984 সালে রাশিয়া এই গেমসে অংশগ্রহণ করেনি। 

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীন অলিম্পিক গেমসে আধিপত্য বিস্তার করেছে। এই দেশগুলি সবচেয়ে বেশি পদক জিতেছে, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি 1894 খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই কমিটির সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডে। অলিম্পিক গেমস এই কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ১ জন রাষ্ট্রপতি, সহ -সভাপতি এবং নির্বাহী সদস্য নিয়ে গঠিত।

অলিম্পিকের পতাকা 1913 সালে তৈরি করা হয়েছিল। এন্টওয়ার্প অলিম্পিকে এই পতাকা প্রথম উড়ানো হয়। এই সাদা পটভূমির পতাকাটিতে 5 টি রিং রয়েছে যা ঘরটি 5 টি মহাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে। নীল আংটি ইউরোপ মহাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে এবং হলুদ আংটি এশিয়াকে প্রতিনিধিত্ব করে। কালো রিং আফ্রিকা, গ্রিন রিং অস্ট্রেলিয়া এবং রেড রিং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব করে।

অলিম্পিকের Moto Vehicle উদ্দেশ্য কী?

ল্যাটিন ভাষায় তিনটি শব্দ আছে – সিটিয়াস, আলটিয়াস এবং ফোর্টিয়াস যার অর্থ যথাক্রমে দ্রুত, উচ্চ এবং শক্তিশালী।

অলিম্পিক টর্চ শিখা – অলিম্পিকে মশাল জ্বালানোর ঐতিহ্য শুরু হয় 1928 আমস্টারডাম অলিম্পিকে।

অলিম্পিকে বিজয়ী খেলোয়াড়দের তিন ধরনের পদক দেওয়া হয়। যে খেলোয়াড় প্রথম আসে তাকে স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। দ্বিতীয় স্থানে রৌপ্য পদক এবং তৃতীয় স্থানে ব্রোঞ্জ পদক প্রদান করা হয়। একটি স্বর্ণপদক একটি পদক যা গ্রাম সোনা দিয়ে তৈরি হয় যার পরিধি মিমি এবং পুরুত্ব মিলিমিটার, যখন রৌপ্য পদক রূপার তৈরি পদক। একটি ব্রোঞ্জ মেডেল ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি একটি মেডেল।

অলিম্পিক গেমসে ভারতের ইতিহাস

ভারত 1900 সালে প্যারিস অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল, তারপর নরম্যান পিচার্ড ভারতের হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল এবং 2 টি রৌপ্য পদক জিতেছিল। ভারত অলিম্পিক পদকের তালিকা।

১৯২8 আমসডারম্যান অলিম্পিকে হকি খেলায় ভারত তার প্রথম স্বর্ণপদক জিতেছিল। ভারত 1932, 1936, 1948, 1952, 1956, 1964 এবং 1980 অলিম্পিকে হকি খেলায় স্বর্ণপদক জিতেছে। ভারত 1960 রোম অলিম্পিকে হকিতে রৌপ্য পদক জিতেছিল এবং 1968, 1972 অলিম্পিকে ভারত ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিল। ভারত এখন পর্যন্ত হকিতে gold টি স্বর্ণ, ১ টি রৌপ্য এবং ২ টি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে।

ব্যক্তিগত ইভেন্টে প্রথম পদক ছিল 1952 হেলসিংকি অলিম্পিকে জয়। কেডি যাদব কুস্তি প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন। লিয়েন্ডার পেস 1996 সালের আটলান্টা অলিম্পিকে টেনিসে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন।

অলিম্পিক গেমসের ইতিহাস

2000 সালের সিডনি অলিম্পিকে ভারোত্তোলনে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন কর্ণম মল্লেশ্বরী। ২০০৪ সালের এথেন্স অলিম্পিকে শুটিংয়ে ভারতের একমাত্র রৌপ্য পদক জিতেছিলেন রাজ্যবর্ধন সিং রাঠোর। ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিক ভারতের জন্য খুবই বিশেষ ছিল কারণ ভারত এই অলিম্পিকে প্রথম স্বর্ণপদক পেয়েছিল। শুটিংয়ে স্বর্ণপদক জিতেছেন অভিনব বিন্দ্রা।

২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে ভারত ২ টি রৌপ্য এবং ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিল। বিজয় কুমার শুটিংয়ে রৌপ্য পদক এবং কুস্তিতে সুশীল কুমার জিতেছেন। যোগেশ্বর দত্ত কুস্তিতে ব্রোঞ্জ পদক এবং শুটিংয়ে গগন নারং জিতে ভারতকে সম্মান এনেছিলেন। মেরি কম বক্সিংয়ে ব্রোঞ্জ পদক এবং ব্যাডমিন্টনে সাইনা নেহওয়াল জিতেছেন।

২০১৬ রিও অলিম্পিকে ভারতের পারফরম্যান্স হতাশাজনক ছিল এবং ভারত মাত্র ২ টি পদক জিতেছিল। ব্যাডমিন্টনে পিভি সিন্ধু রৌপ্য পদক জিতেছেন এবং সাক্ষী মালিক কুস্তিতে ব্রোঞ্জ পদক জিতে পদক তালিকায় ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

অলিম্পিক গেমস সম্পর্কে তথ্য

১.1960 সালে রোম অলিম্পিক থেকে অলিম্পিক গেমস টেলিভিশন করা হয়েছিল।

2. যে খেলোয়াড় একক অলিম্পিক ইভেন্টে সর্বাধিক স্বর্ণপদক জিতেছেন তিনি হলেন মাইকেল ফেলপস, যিনি সাঁতারে স্বর্ণপদক জিতেছেন। বেইজিং অলিম্পিকে ফেলপস 8 টি স্বর্ণপদক জিতেছেন।

3. অলিম্পিক গেমসে প্রথম ভারতীয় মহিলার নাম মেরি লীলা রো।

4. রিও অলিম্পিক 2016 এ 206 টি দেশ অংশগ্রহণ করেছিল এবং 28 টি ক্রীড়া এই অলিম্পিকে জড়িত ছিল যার 306 টি ইভেন্ট ছিল।

5. অলিম্পিক গেমস গ্রীষ্মকালে এবং শীতকালেও খেলা হয় কিন্তু এটি এত জনপ্রিয় নয়।

6. অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় বক্সিং, রেসিং, রেসলিং, সাঁতার, দৌড়ের মতো অনেক ইভেন্ট রয়েছে।

7. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে 1916, 1940 এবং 1944 সালে অলিম্পিকের আয়োজন করা হয়নি।

Read more

ফুটবল খেলার ইতিহাস | ফুটবল খেলার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

ফুটবল খেলার ইতিহাস — ফুটবল খেলা দেখেননি অথবা অন্তত একবার হলেও ফুটবল খেলেননি এমন লোক বর্তমান সময়ে খুঁজে পাওয়াটা অনেক দুষ্কর ব্যাপার। একটি খেলা যে সারাবিশ্বের মানুষকে এভাবে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসতে পারে, তা এই ফুটবল খেলা না দেখলে হয়তোবা অনুভব করা যাবেনা। কিন্তু সকলেই শুধুমাত্র ফুটবল খেলা দেখে থাকে না। কেউ কেউ আছেন যারা ফুটবলের উন্মাদনায় মাতোয়ারা হয়ে পাশাপাশি ফুটবল খেলার ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চায়। ফুটবল খেলার ইতিহাস সম্পর্কে সে জ্ঞানের তৃষ্ণা মেটাতেই মূলত আমাদের আজকের এই আর্টিকেল। 

মানবসভ্যতার নানা বাকে ফুটবল 

ফুটবল নামটির সঙ্গে রয়েছে বেশ সার্থকতা। ফুট শব্দের অর্থ হচ্ছে পা। আর বল শব্দের প্রচলিত বাংলা অর্থ হচ্ছে ‘বল’। যাকে পূর্বে বলতো গোলক। মূলত পা দিয়ে বলকে লাথি মেরে খেলাকেই বলা হয় ফুটবল। আর এমন একটি খেলা অর্থাৎ ফুটবল খেলা পাওয়া গেছে মানব সভ্যতার নানান বাঁকে। 

মেসোমেরিকান সভ্যতা

বলের সাহায্য খেলার প্রথম প্রমান দেখা যায় মেসোমেরিকান সভ্যতাতে। যা প্রায় গত ৩০০০ হাজার বছর পূর্বে হতো সেই খেলা। আর সেই বলটি ছিলো মূলত পাথরের। অ্যাজটেকদের সেই খেলাতে কিছু অনুষ্ঠানে বলকে মনে করতো সূর্যের প্রতীক। আর সূর্য দেবতার সম্মানেই তারা খেলায় বিজয়ী দলের দলপতিকে উৎসর্গ করতো অ্যাজটেকরা। তবে হা মেসোমেরিকান সভ্যতাই ছিলো রাবার ইউজারকারী প্রথম সভ্যতা। তাই তাদের খেলাতে এমনকি রাবারের বলের ব্যবহারের ও নজির আছে।

আরও পড়ুনঃ অলিম্পিক গেমের ইতিহাস | অলিম্পিক গেমসের সম্পূর্ণ ইতিহাস

এশীয় ও অস্ট্রেলীয় সভ্যতা

বলকে লাথি মেরে খেলতে হয় এমন ধরনের খেলার বিষয়ে প্রথমে জানা যায় চীনাদের হিস্ট্রি থেকে। হান রাজবংশের সময়ে ২য় এবং ৩য় খ্রিষ্টপূর্বাব্দে চীন দেশে একটি ধরনের খেলা প্রচলিত ছিলো। যার নাম ছিলো হচ্ছে ‘কুজু’। যাকে সরাসরি ইংরজিতে করলে হয় কিকবল ‘Kickball’। কুজু খেলাটি খেলতো একটি গোল বল ব্যবহার করে। পশম অথবা পালককে চামড়া ব্যবহার করে মুড়ে তৈরি করা হতো বল। তারপর চারকোণা একটি মাঠের মাঝে হতো সেই খেলা। 

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যা বিস্তার লাভ করছে মালয় উপদ্বীপে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে তা জাপান ও প্রশান্ত মহাসাগরের অন্যান্য দ্বীপ গুলোতে এবং অস্ট্রেলীয়াতে ও ছড়িয়ে পড়ছে কুজুর মতো এই খেলাটি। জাপানিজরা এই খেলাকে বলতো খেমারি। অন্যদিকে অস্ট্রেলীয়ায় এই খেলার নাম ছিলো মার্ন গুক। ১৮০০ শতকে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীরা গাছের পাতা এবং মূলকে ব্যবহার করে বল বানিয়ে এই খেলা খেলতো।

তাছাড়াও বলকে লাথি মেরে খেলার প্রচলিত ছিলো প্রাচীন গ্রিক এবং রোমান সভ্যতাতে। তবে হ্যাঁ সেসব অঞ্চলে খুব বেশি বড় আকারে খেলা হতোনা। যদিওবা গ্রেট ব্রিটেনে এই খেলাটিকে পৌছে দেয় রোমানরাই। পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশরাই এই খেলার প্রচলন ঘটায় সারাবিশ্বে। আর যার কারণে বর্তমান সময়ে সারাবিশ্বের প্রায় সব দেশের মানুষ কাছে পছন্দের দলের খেলা অনুষ্ঠিত হলেই ভাই-বোন, পরিবার, বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে লাইভ ফুটবল ম্যাচ খেলা দেখতে সবাই মেতে উঠে।

ব্রিটেনঃ আধুনিক ফুটবলের জন্মভূমি

পূর্বকথা

ব্রিটেনকে বলা হয়ে থাকে মূলত আধুনিক ফুটবলের মাতৃভূমি বা জন্মভুমি। সেই ১২০০ শতাব্দীতে ইংল্যান্ড এর মাঠে-ঘাটে খেলতো ফুটবলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ নানান ধরনের খেলা। তবে সেসকল খেলাতে নিয়ম-কানুনের কোনো বালাই ছিলো না বললেই হয়। এমনকি সেই সকল খেলাতে পায়ের পাশাপাশি হাতের ব্যবহার করা হতো অহরহ। অনেক সময় এসকল খেলাতে আবার অনেক বেশি মানুষেরা অংশগ্রহণ করতো। যার কারণে সেখানে হাতাহাতি, মারামারি এমনকি অনেকে মৃত্যুবরণ করছে। 

খেলাকে কেন্দ্রবিন্দু করে বাড়িঘর ভাংচুর করা হতো প্রায় সময়। আর এসকল অনিয়মে রাজা বিরক্ত হয়ে দ্বিতীয় অ্যাডওয়ার্ড সকল শহর থেকে এই খেলাকে নিষিদ্ধ করে দেন। পরবর্তী ১৩৪৯ সালের দিকে আবার তার পুত্র তৃতীয় অ্যাডওয়ার্ড পুরো ব্রিটেন থেকেই এই খেলাকে নিষিদ্ধ করে দেন। কিন্তু হ্যাঁ রাজা সপ্তম হেনরির আবার ফুটবলের প্রতি অনুরাগ ছিলো বেশ। তার রাজকীয় জুতার ভান্ডারে ফুটবল খেলার জন্যে ১ জোড়া চামড়ার জুতো এবং ৪৫ জোড়া ভেলভেট দেখলেই সেটা বোঝা যায়। 

তবে হ্যাঁ তার স্থুলতার কারনে এ খেলাতে তিনি তেমন বেশি পারদর্শী ছিলেন না। পরবর্তী সময়ে ১৫৪৮ সালে এই খেলাটি দাঙ্গার সৃষ্টি করে এই কারণ দেখে রাজা সপ্তম হেনরি আবার পুনরায় তৎকালীন ফুটবলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। 

তৎকালীন সময়ে ফুটবলের এই হিংস্রতার ইতিহাস বারবার ফুঁটে উঠেছে ষোড়শ এবং সপ্তদশ শতাব্দী জুড়ে। এই খেলাটি নিষিদ্ধ হলেও ফুটবলের মতোই আরো নানান ধরনের খেলার প্রচলন ছিলা ইংল্যান্ডের মাঠে ঘাটে। এমনকি লন্ডন শহরে চলতো সেসকল খেলা। সে সময় শুধুমাত্র ইংল্যান্ড না, ফুটবলের মতো খেলাটি বিস্তার লাভ করছিলো স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড এবং ওয়েলসতে। 

তবে হ্যাঁ সেসকল খেলার হিংস্রতার জন্যে সেগুলো ১৮৩৫ সালে আবার পুনরায় নিষিদ্ধ করা যেতে পারতো। কিন্তু ততোদিনে সাধারণ মানুষের খেলার স্তর থেকে ফুটবল এর উন্নতি হয়েছিকো। সে সময়ে ইংল্যান্ডের পাবলিক স্কুল গুলোর মাঝে ফুটবলের মতো আরো নানান ধরনের খেলার ব্যবস্থা ছিলো। এমন ২টি প্রধান পাবলিক স্কুল ছিলো রাগবি এবং ইটন। রাগবি স্কুলে ফুটবল খেলাতে পায়ের পাশাপাশি ঠিক হাতেরও ব্যবহার প্রচলিত ছিলো। সেখান থেকেই মূলত জন্ম হয়েছে আজকের এই রাগবি খেলার। অন্যদিকে ইটন স্কুলে শুধুমাত্র পায়ের মাধ্যমেই ফুটবল খেলতো। অর্থাৎ এটাকে বলা চলে বর্তমান সময়ের ফুটবলের আদিপিতা।

আরও পড়ুনঃ কম্পিউটারের জন্য প্রয়োজনীয় ৫টি সফটওয়্যার

নিয়মাবলীর জন্ম

তখন ছিলো ১৮৪৮ সাল। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছায়ার নিচে ইংল্যান্ডের বড় বড় পাবলিক স্কুল গুলোর প্রতিনিধিরা জমা হতো। সে সময়ে কিছু কিছু নিয়মকানুন করা হয়। সেগুলোকে বলা হতো কেমব্রিজ রুলস। তৎকালীন সসময়ে বড় বড় স্কুলগুলি অর্থাৎ রাগবি, ইটন, শ্রুসবেরি ও হ্যারো, উইনচেস্টার এই সকল নিয়ম-কানুন মেনে নেয়। যদিওবা ১৮৫০ এর দশকে ইংল্যান্ডের অনেক স্কুলগুলো তাদের নিজেদের মতো করে নিয়ম-কানুন তৈরি করে এই খেলা চালিয়ে নিয়েছিলো। আবার কিছু কিছু স্কুল শেফার্ড রুলস নামের ভিন্ন কিছু নিয়ম-কানুন অনুসরণ করতো। 

বেনিজার কব মর্লেই হচ্ছে ২২ বছরের এক উজ্জ্বল তরুণ। তিনি ছিলেন তৎকালীন বার্নস ক্লাবের দলনেতা। ২৬ অক্টোবর ১৮৬৩ সালে, লন্ডনের গ্রেট কুইন স্ট্রিটের ফ্রিম্যাসন ট্যাভার্নে এবেনিজার ডাক দেন একটি মিটিং। আর সেই মিটিংয়ের ফলস্বরুপই প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে দ্যা ফুটবল এসোসিয়েশন। বর্তমান সময়ে যেটা পরিচিত FA নাম দিয়ে। 

পরবর্তী সময়ে আরও ৫ মিটিং করার পরে অবশেষে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ফুটবলের বিশেষ কয়েকটি নিয়মকানুন বানাতে সমর্থ হয়। কিন্তু হ্যাঁ শেষ মিটিংয়ের দিনে ব্ল্যাকহিথ ক্লাবটি অ্যাসোসিয়েশন থেকে ত্যাগ করে। কেননা তাদের দাবি ছিলো মূলত ফুটবল খেলাতে হাতের ব্যবহার করতে হবে এবং প্রতিপক্ষকে ধরে রাখার জন্য প্রথা বজায় রাখতে হবে। ব্ল্যাকহিথ ক্লাবকে সাপোর্ট করে আরো কয়েকটি ক্লাব মিলে তারপর গঠন করে রাগবি ফুটবল ইউনিয়ন। যা বর্তমানে রাগবি খেলা নামে পরিচিত। 

আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন 

বর্তমান সময়ে ফুটবল খেলার সকল নিয়ম-কানুন পরিচালিত হয়ে থাকে আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের দাঁরা। আর হ্যাঁ এই আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এর জন্ম হয়েছিলো ১৮৮৬ সালে যা ম্যানচেস্টার শহরে। দি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, দি স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, দি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব ওয়েলস ও আইরিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন মিলে গঠন করা হয় আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। আর সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ইংল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ডের মধ্যে। যা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ৩০ নভেম্বর ১৮৭২ সালে। 

দেশে দেশে ফুটবল

আধুনিক ফুটবল এর জনক হিসেবে পৃথিবীর অনেক দেশের মানুষদেরকে ফুটবল খেলার প্রতি আগ্রহী করা এবং উৎসাহিত করা এই দুটোর দায়ভার মূলত ব্রিটিশদের। দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা, ইউরোপের দেশগুলোতে ব্রিটিশদের ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারনে ফুটবল খেলাটাও অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড এবং ভারতবর্ষের মত দেশগুলো যেগুলোতে ব্রিটিশরা জোরপূর্বক কলোনি বানিয়ে ছিলো সেগুলোতে ফুটবল খেলার তেমন বেশি আগ্রহ তৈরী হয়নি। 

ঐসকল দেশে ক্রিকেট, রাগবির মতো ইত্যাদি খেলা প্রচলিত ছিলো। তাছাড়াও ইংল্যান্ড এবং অন্যান্য অনেক দেশেই ফুটবল খেলোয়াড়দের মাঝে শ্রেণীর পার্থক্য ছিলো চোখে পড়ার মতোই। যেমন ধরুন ইংল্যান্ডের ফুটবল দলের সকল শ্রেণীর খেলোয়াড় কিছু কিছু করে থাকলেও বেশিরভাগ খেলোয়াড়রা ছিলো নিচু শ্রেণী থেকে উঠে আসছিল। 

আবার ডাচদের ক্ষেত্রে ফুটবল খেলোয়াড় হিসাবে উঁচু শ্রেণীর লোকেরাই খেলাতে বেশি অংশগ্রহণ করতে পারতো। ফুটবল খেলায় সেসময়ে জাতীয় দলের খেলার তুলনায় ক্লাবের খেলাগুলো বেশী পরিমাণে গুরুত্ব পেতো। প্রথম দিকে শুধুমাত্র ব্রিটিশ ক্লাব গঠন শুরু করলেও পরবর্তীতে একে একে বিভিন্ন দেশে ফুটবল ক্লাব গঠন করা হয়। যা খুবি দ্রুততার সাথে ফুটবলকে মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলে।

আরও পড়ুনঃ ব্লগ সাইট খোলার নিয়ম | ফ্রী ব্লগ সাইট তৈরি করে লাখ টাকা ইনকাম করুন

ড্যনিশ ফুটবল ও ফুটবল ক্লাব

ইংল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডের পরে ইউরোপের প্রথম ফুটবল ক্লাব গঠন করে ড্যানিশরা ১৮৭৬ সনে। ক্লাবের নাম ছিলো কোপেন হেগেন বোল্ডক্লাব। ইউরোপের প্রথম ফুটবল ক্লাবটিও গঠিন করা হয় এই ডেনমার্কে ১৮৮৯ সালে। এই সকল বিষয় মিলিয়ে ইউরোপীয়রা অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে পর্যন্ত ড্যানিশরা অনেক শক্তিশালী ছিল। যার ফলস্বরুপ ১৯০৮ এবং ১৯১২ সালের অলিম্পিকে তারা পর পর দুবার রৌপ্য পদক লাভ করে।

স্প্যানিশ ফুটবল

স্পেনে ফুটবলের প্রচলন তৈরী হয় মূলত স্পেন দেশে কাজ করতে আসা ব্রিটিশ অভিবাসীদের সাহায্যে। উনিশ শতকের শেষ দিকে ধীরে ধীরে ফুটবল খেলা অভিবাসীদের মাধ্যমে স্পেনের সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটবল খেলাটিকে স্পেনে জনপ্রিয় করার জন্যে তৎকালীন সময়ের স্পেনের রাজা ত্রিয়োদশতম আলফোনসের ভূমিকা অনেকটাই। তিনি ১৯০২ সালের স্পেনে বাস্ক, ক্যাটালনিয়া এবং মাদ্রিদের অঞ্চল গুলোতে বেশ কিছু দলের মাঝে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করে থাকেন। কিন্তু এতো কিছুর পরে আঞ্চলিক বিভক্তির কারনে স্প্যানিশ জাতীয় দল গঠন করাটা ছিলো বেশ কঠিন ব্যাপার। একারণেই তারা মূলত ১৯০৪ সালে ফিফার (ফুটবল ফেডারেশন) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়া সত্ত্বেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে কোনো জাতীয় টিম তৈরী করতে পারেনি।

ইতালীয় ফুটবল

ইতালিতে ফুটবল খেলার সূচনাটা হয়েছিলো মূলত সুইস, ব্রিটিশ এবং ইতালির উচু শ্রেণীর জনগনের মাধ্যমে। যার কারনে বর্তমানে ইতালির ফুটবলে সেখানকার উচু শ্রেণীর মানুষের প্রভাব দেখা যায়। ইতালির ফুটবল খেলার উত্থান স্পেনের সমসাময়িক। উনিশ শতকের শেষ দিকে ইতালির প্রথম ফুটবল ক্লাব গঠন করা হয়। আর ১৮৯৮ সালে ইতালিতে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন হয়।

Read more