মায়ের রক্তের গ্রুপের সাথে সন্তানের রক্তের গ্রুপ মিলেনা কেন?

মায়ের রক্তের গ্রুপের সাথে সন্তানের রক্তের গ্রুপ মিলেনা কেন — আমার এক বন্ধু ছিলো। তার রক্তের গ্রুপ O+। কিন্তু তার মায়ের …

Read more

প্রাকৃতিক ভাবে হজম শক্তি বৃদ্ধির উপায়

হজম শক্তি বাড়ানোর প্রাকৃতিক উপায় — বর্তমান সময় আমরা অনেকেই আছি যারা হজমে নানা রকম সমস্যা অনুভব করে থাকি। এখন এই সমস্যাটি কমবেশি অনেকেরই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে আপনি যদি বেশ কিছু উপায় অনুসরণ করে চলেন তাহলে খুব সহজেই আপনি আপনার হজম শক্তি বাড়াতে পারবেন। আমরা আজকে আমাদের আর্টিকেলে প্রাকৃতিক ভাবে হজম শক্তি বৃদ্ধির উপায় গুলো সম্পর্কে আলোচনা করবো।

হজম শক্তি কমে যাওয়ার কারণে আমাদের নানা রকম সমস্যায় ভুগতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে এই সমস্যাগুলো আমাদের শরীরে প্রকট আকার ধারণ করে আমাদেরকে যথেষ্ট অসুস্থ করে দেয়। আমরা আমাদের সুস্থ শরীর ব্যবস্থাকে হারিয়ে ফেলি হজম শক্তি কমে যাওয়ার ফলে।

সাধারণত একেক জনের হজমশক্তি একেক রকম হয়ে থাকে। বর্তমান সময়ে অধিকাংশ লোক রয়েছে যাদের হজম শক্তি অনেক কম। একই রকম খাবার খেয়ে একজনের স্বাস্থ্য ভালো হয়, অন্যদিকে আরেক জনের স্বাস্থ্যে কোনরকম পরিবর্তন আসে না। হজম শক্তি কম থাকলে আমাদের নানারকম সমস্যা গুলোর মধ্যে অন্যতম সমস্যা হচ্ছেঃ গ্যাস্ট্রিক, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য, বুক জ্বালা, বুক ব্যথা ও পেট ব্যথা, পেটে অস্বস্তি বোধ করা, পেটে যে কোন প্রকার আলসার হওয়া, বদহজম সহ আরো নানা কিছু।

সাধারণত এই সমস্যাগুলো যখন প্রকট আকার ধারণ করে তখন আমাদের জীবনের বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। এই সমস্যা গুলো মূলে রয়েছে অনিয়মিত অগোছালো জীবন ধারণ এবং খাদ্যভ্যাস। আর যাদের হজম শক্তি কম হয়ে থাকে তাদের হজম শক্তি বাড়ানোর বেশ কিছু প্রাকৃতিক উপায় রয়েছে। এসব উপায় অবলম্বন করলে আপনি আপনার হজম শক্তি কে যথেষ্ট ভাবে বৃদ্ধি করতে পারবেন। তাই আর দেরি না করে চলুন জেনে নেওয়া যাক হজম শক্তি বাড়ানোর প্রাকৃতিক উপায় গুলো সম্পর্কে। নিচে এসব উপায় আলোচনা করা হলো।

সুষম খাবার গ্রহণের মাধ্যমে হজম শক্তি বৃদ্ধি করা

আপনার হজম শক্তি যদি কম হয়ে থাকে তাহলে আপনি সুষম খাদ্যের উপর গুরুত্ব দিন। সাধারণত আমাদেরকে বেঁচে থাকার জন্য অবশ্যই খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু আপনি যদি হজম শক্তি বাড়ানোর খাদ্য গুলোর উপর নজর দেন তাহলে সুষম খাদ্য গুলো উপরে উঠে আসবে। আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধির জন্য বেশ উপকারী খাবার হবে বিভিন্ন প্রকার সুষম খাবার। সুষম খাবার পাকস্থলীর হজম শক্তি বৃদ্ধি করে দেহের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়া কে সচল রাখতে সাহায্য করে।

প্রচুর পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করার মাধ্যমে হজম শক্তি বৃদ্ধি করা

হজম শক্তি বাড়ানোর একটি অত্যন্ত সহজ উপায় হচ্ছে আঁশযুক্ত খাবার প্রচুর পরিমাণে খাওয়া। এই আর যুক্ত খাবারের যেসব উপাদান রয়েছে সেগুলো আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধিতে দ্রুত কাজ করে। সাধারণত আঁশযুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে শিম, বাদাম, শাকসবজি, গোটা শস্য, এবং গমের ভুসি সহ আরো নানা কিছু। আশঁ যুক্ত খাবার দেহের পানি শোষণে এক বিশেষ সহায়তা করে থাকে আপনাকে যা, কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে রক্ষা করতে পারে।

আপনি যদি হজমজনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে অবশ্যই আশঁ যুক্ত খাবার খাওয়ার আপনার জন্য উপকারী। আর তাই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আপনি প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস করে গড়ে তুলতে পারেন।

পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করার মাধ্যমে হজম শক্তিকে বৃদ্ধি করে তুলুন

আপনি যদি আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে চান তাহলে প্রতিদিন নিয়মিত ভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন। এটি হজম শক্তি বৃদ্ধিতে দ্রুত কাজ করে থাকবে। আমাদের সুস্থ থাকার জন্য সাধারণত প্রতিদিন কমপক্ষে ১.৫ লিটার থেকে ২ লিটার পানি পান করা উচিত। তাছাড়া আপনার দেহে যদি পানিস্বল্পতার থাকে তাহলে হজম জনিত সমস্যা সহ কোষ্ঠকাঠিন্য হয়ে থাকবে।

পানির অভাবে আমাদের শরীরে বিভিন্ন শরীর বৃত্তীয় কাজের বিঘ্ন ঘটে থাকে। আপনার হজম শক্তি বাড়াতে প্রতিদিন নিয়মিত ভাবে পানি পান করার পাশাপাশি বেশ কিছু তরল খাবার গ্রহণ করতে পারেন। বিভিন্ন রকম ফল পানি জাতীয় হয়ে থাকে আপনি সেইসব গ্রহণ করতে পারেন। এতে আপনার হজম সমস্যা দূর হবে।

Read more

মেথির উপকারিতা | মেথির উপকারিতা চুলের জন্য

মেথির উপকারিতা — মেথি নাম শুনলেই মনে পড়ে যায় পাচ ফোড়নের কথা। পাচ ফোড়নের এক বিশেষ উপাদান মেথি। সোনালী রঙের ছোট ছোট এই দানা অসংখ্য গুণে পরিপূর্ণ। মেথিতে ফ্যাট, ফাইবার, ক্যালরি, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা, ম্যাংগানিজ বিদ্যমান। মেথির উপকারিতার কথা যদি বলতেই হয় তাহলে আমাদের স্বাস্থ্য ও রূপচর্চায় মেথি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চলুন, এক নজরে দেখে আসি মেথির সকল উপকারিতা। 

স্বাস্থ্যের জন্য মেথির উপকারিতা

হার্ট সুস্থ রাখে

আমরা যখন ঘুমাতে যাই তখন আমাদের সকলের হাতেই একটা জিনিস থাকে। সেটি হলো মোবাইল। আপনি আপনার মোবাইলটি সাইডে রেখে এক গ্লাস পানি নিবেন ও পানিতে কিছুটা মেথির দানা ভিজিয়ে নিবেন। ভিজানোর সাথে সাথে খেয়ে ফেলবেন না আবার। ভিজানোর পর ঘুমিয়ে যাবেন।পরেরদিন সকালে যখন ঘুম থেকে উঠবেন তখন সবার প্রথমে মেথির পানি খাবেন। দেখবেন শরীরটা ভালো লাগছে। সকাল সকাল খালি পেটে মেথির পানি খেলে বুকের জ্বালাপোড়া সহ হার্টের অন্যান্য সকল সমস্যা অনেকক্ষাণি দূর হয়ে যায়। এতে আপনার ডাক্তারের এপয়েনমেন্ট বুক করতে হবে না, শুধু পাশের মুদি দোকান থেকে মেথি বুক করলেই চলবে।

হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

ওইযে বলেছিলাম না মেথিতে ফাইবার রয়েছে! কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি এই ফাইবারের কাজ কি? আচ্ছা আমিই বলি। মেথিতে থাকা এই ফাইবারই আপনার আমার সকলেরই হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 

ওজন কমায়

আপনি যদি ওজন আধিক্যের সমস্যায় ভুগে থাকেন? তাহলে মেথি আপনার জন্যই। মেথিতে Galactomamnan নামক এক ফাইবার থাকে। এটি আমাদের শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে। 

বাতের ব্যথা কমায়

সাধারণত বয়স্কদের বাতের সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু এখনকার এই যুগে ছোট- বড় অনেকের মাঝেই এই সমস্যা দেখা যায়। যাদের এই সমস্যা রয়েছে তারাই বুঝতে পারে বাতের ব্যথা কতটা কষ্টকর। তবে মেথি তো রয়েছেই। মেথি খেলে বাতের ব্যথা অনেকটাই কমে যায়।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

মেথিতে পটাশিয়াম ও ফাইবার রয়েছে। এটি আমাদের শরীররের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

ক্যান্সার

যখন শুনতে পাই কেউ ক্যান্সার এ আক্রান্ত হয়েছে তখন চারপাশ কেমন যেনো নীরব হয়ে যায়। আজকাল ছোট বড় অনেকেরই ক্যান্সার হয়ে থাকে। তবে মেথি খেলে ক্যান্সার এর আশংকা অনেকটাই কমে যায়। 

রুপচর্চা মেথির উপকারিতা

খুশকি কমায়

আমাদের নিত্যদিনের এক সমস্যা হয়ে দাড়িয়ে লছে খুশকি। কোথাও বেড়াতে গেলে কেউ যখন বলে তোমার চুলে ও কাধে সাদা সাদা এগুলো কি তখন এক অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু এখন থেকে আপনাদের এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে না। কারণ মেথি তো আছেই। মেথি আমাদের চুলের খুশকি সূর করে ও চুলের গোড়া মজবুত করে।

Read more

লম্বা হওয়ার উপায় | লম্বা হওয়ার খাদ্য তালিকা

লম্বা হওয়ার উপায় | লম্বা হওয়ার খাদ্য তালিকা— লম্বা হতে চাই প্রতিটা ছেলে কিংবা মেয়ে সকলের মনের বাসনা একটাই। যারা বেশ ভালোই লম্বা তাদেরও মনে হয় আরো ১ থেকে ২ ইঞ্চি লম্বা হতে পারলে আরো বেশ ভালো মানাতো আমাকে! বংশগতি থেকেই নির্ধারিত হয়ে থাকে আপনি আসলে কতখানি লম্বা হবেন।

তবে এই কথাটিও ঠিক আপনার পূর্ব পুরুষেরা লম্বা হলেও যদি আপনি অপুষ্টিতে ভোগেন তাহলে আপনার বৃদ্ধি ঠিকমতো হবেনা। আর মানুষের দেহের বৃদ্ধি ঘটে সাধারণত ২৫ বছর বয়স পর্যন্তই। তাই কিশোর বয়স থেকেই এই ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। নিম্নোক্ত ৩টি বিষয়ের সমন্বয় লম্বা হতে সহায়তা করে থাকেঃ

১. পুষ্টিকর খাবার

২. পর্যাপ্ত বিশ্রাম

৩. নিয়মিত ব্যয়াম

লম্বা হতে চাইলে আপনাকে আপনার খাবার তালিকায় কি কি থাকতে হবে বা লম্বা হওয়ার খাদ্য তালিকা গুলো সম্পর্কে জেনে নিনঃ

লম্বা হওয়ার উপায়

মিনারেলস

পর্যাপ্ত পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের মিনারেল আপনার খাবার তালিকায় রাখতে হবে। আমাদের শরীরে প্রতেকটি কাজের জন্য মিনারেলের ভূমিকা আছে। হাড়ের গঠন এবং আমাদের বৃদ্ধিতে মিনারেল একান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। বিশেষ ভাবে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস যেন পরিমাণ মতো গ্রহণ করা হয় সেদিকে আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে। 

বাধাকপি, ফুলকপি, দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার, পালং শাক, পুই শাক, ছোট মাছ, খেজুর, ব্রোকলি ইত্যাদিতে ভালো পরিমাণে ক্যালসিয়াসম রয়েছে। মাছ, মাংস, দুগ্ধজাত খাবার, এমনকি সবজিতেও রয়েছে ফসফরাস। পর্যাপ্ত আয়রন পাওয়া যায় ডিমের কুসম, কলিজা, গরুর মাংস এবং খেজুরে। ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে লেবু, আপেল, ডুমুর, জাম্বুরা, ইত্যাদিতে। জিঙ্ক পাওয়া যায় সূর্যমুখীর বিচি এবং ডিমে।

ভিটামিন

আমাদের প্রয়োজনীয় সকল ধরনের ভিটামিনই বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি এবং ফলমুল থেকে পাওয়া যায়। কিন্তু খাবারের ভিটামিন শরীরে কতটুকু গৃহিত হয় সেটা বোঝা বেশ কঠিন ব্যাপার। তাই বিভিন্ন রকমের শাক-সবজি এবং ফলমুল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। Vitamin B-1 রয়েছে চিনা বাদাম, লাল চাল, গমে। Vitamin B-2 রয়েছে মাছ, ডিম এবং দুধে। Vitamin B-6 আছে বাধাকপি, কলিজা, গরুর মাংস। মাছের তেলে রয়েছে ভিটামিন-ডি এবং দুগ্ধজাত খাবার থেকে ভিটামিন-ডি পাওয়া যায়। ভিটামিন-ই রয়েছে সয়াবিনে, গমে এবং ডিমে। ভিটামিন-এ রয়েছে ডিমের কুসুমে, গাজোরে, দুধ এবং কলিজায়।

প্রোটিন

হাড়ের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মাংস পেশীরও বৃদ্ধি পেতে হবে লম্বা হওয়ার জন্যে। আর মাংস পেশির বৃদ্ধি এবং মজবুত হওয়ার জন্যে দরকার প্রোটিন। খাবার তালিকায় ভালোমানের প্রোটিন যেমনঃ মাছ, মাংস, ডিম তালিকায় রেখে দিন। বিভিন্ন ধরনের ডাল, মটরশুটি, সীম বীচি, কাঠাল বীচি ইত্যাদি থেকেও ভালোমানের প্রোটিন পাওয়া যায়। খাবার তালিকায় সয়া প্রোটিন, বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন সেইক যুক্ত করতে পারেন।

কার্বোহাইড্রেট

অনেকেই আছেন যারা লম্বা হওয়ার জন্যে কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্যাট জাতীয় খাবারগুলো বেশী পরিমাণে গ্রহন করেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, বেশী পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট লম্বা হওয়াকে বাধাপ্রদান করে। কেননা বেশী পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করা মানে রক্তে বেশী পরিমাণে গ্লুকোজ। যার কারণে ইনসুলিন নামক হরমোনও নিঃসৃত হয় বেশি এবং ইনসুলিন শরীরের গ্রোথ হরমোনের কার্যকারীতা হ্রাস করে দেয়। তাই প্রতিদিনের খাবার তালিকায় লাল চাল, লাল আটা, ছোলা ইত্যাদি রাখুন সাদা আটা, ময়দা, পলিশ চাউলের পরিবর্তে খাবার তালিকায় রাখুন।

পানি পান করুন

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা লাগবে প্রতিদিন প্রায় ১.৫ থেকে ২ লিটার পানি পান করতে হবে।

যেসকল কারনে লম্বা হওয়া বাধাগ্রস্থ পায়

১. ঘুমের অভাবঃ নিয়মিত ৮ ঘন্টা করে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।

২. খেলাধূলা না করাঃ ফুটবল, ক্রিকেট, ভলি বল, বাস্কেট বল খেলার অভ্যাস গড়ে তুলুন। পাশাপাশি আপনাকে কিছু প্রসারিত ব্যায়াম করার প্রয়োজন হবে। যারা নতুন শুরু করছেন তারা প‌্রথমে অল্প কিছু প্রসারিত বায়ামগুলি, তারপর দড়ি লাফ এছাড়াও অন্যান্য ব্যায়াম করা শুরু করুন।

৩. অপুষ্টিঃ সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৪. অঙ্গবিন্যাস ঠিক না থাকাঃ এই ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপিষ্টের সহায়তা নিতে হবে। 

৫. ত্যাগ করতে হবেঃ ধূমপান ও মদ্যপান করার অভ্যাস পরিহার করতে হবে। কেননা এগুলো দেহের হরমোনের ব্যালেন্সকে নষ্ট করে। মানুষের সুবিধার্থে অবশ্যই এই লম্বা হওয়ার উপায় সম্পর্কে আর্টিকেলটি শেয়ার করুন আপনার কাছের মানুষদের সঙ্গে। সুস্থ থাকুন, সুস্থ রাখুন। ধন্যবাদ।

Read more

ভালো মাছ চেনার উপায়

টাটকা মাছ চেনার উপায় — সকলের কাছে একঘেয়েমি খাবারগুলো খেতে ভালো নাও লাগতে পারে। স্বাদ পরিবর্তন করতে বর্তমানে হাটে বাজারে মাছ ক্রেতারা জমাচ্ছেন ভিড়। তবে হ্যাঁ বাজারে মাছ ক্রয় করার সময় ঠকে গেলে সেটা মোটেও আপনার কাছে ভালো লাগবে না। বর্তমান সময়ে মাছ বিক্রেতারা পঁচা মাছ ক্রেতাদের ব্যাগে গুছিয়ে দেন। কোন মাছ তাজা সেটা না চেনার পারার কারণে ক্রেতাগণ পঁচা, ফরমালিন যুক্ত মাছ ক্রয় করে বাড়ি ফিরেন।

তবে হ্যাঁ মাছে যতই রঙ এবং ফরমালিন দেয়া হোক না কেন, টাটকা এবং ফরমালিন মুক্ত মাছ চেনার জন্য আছে দারুণ কিছু কৌশল। যে সকল বিষয় জানা থাকলে আপনি খুবই সহজেই বাজার থেকে তাজা মাছ ক্রয় করে বাড়িতে আনতে পারবেন। এতে করে আপনাকে আর বাজার থেকে মাছ কিনে ঠকে আসার আর কোনো রকম ভয় থাকবেনা। তো চলুন তাহলে ভালো মাছ চেনার উপায় কিংবা তাজা মাছ চেনার উপায় সম্পর্কে জেনে নেইঃ 

ফরমালিন যুক্ত মাছ চেনার উপায়

ফরমালিন যুক্ত মাছের মাংস পঁচে যায়না ঠিকই, কিন্তু মাছের চোখের জীবন্ত ভাব নষ্ট হয়ে যাওয়া কিন্ত ঠেকানো সম্ভব হয়না। টাটকা মাছের চোখ দেখতে সবসময় স্বচ্ছ পরিস্কার হবে। টাটকা মাছের চোখ একদম ঝকঝকে হবে, দেখলেই মনে হবে যে মাছটি জীবন্ত। সময়ের সাথে সাথে মাছের এই চোখ ঘোলাটে অর্থাৎ মৃত হয়ে আসে। যতবেশি সময় যায় চোখ তত দ্রুত নিষ্প্রাণ হয়। তাই আপনি মাছের চোখ দেখলেই চিনতে পারবেন কোনটি তাজা মাছ। 

তাজা মাছ চেনার উপায়

তাজা মাছ দেখতে হবে বাউন্সি। টাটকা তাজা মাছ কখনোই শক্ত হবেনা, আবার তাজা মাছ নরমও কিন্ত হবেনা। যদি আপনি মাছের উপরে আঙ্গুল দিয়ে চাপ দেন তাহলে যদি দেখতে পান যে মাছটি একদম শক্ত আছে, তাহলে আপনি বুঝে নিবেন যে সেই মাছটি ফ্রিজে রাখা হয়েছিল। আর যদি মাছের পেটে আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিলে পেট নরম হয়ে যায় ভেতরে, তাহলে আপনি বুঝে নিবেন যে মাছটি তাজা অর্থাৎ মাছটি টাটকা না। তাজা মাছ বা টাটকা মাছের পেটে যখন আপনি আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিবেন তখন মাছের পেট দেবে যাবে ঠিকই, কিন্তু আবার আপনি যখন আঙ্গুল সরে নিবেন তখন জায়গাটা আবার ঠিক হয়ে যাবে। 

কানকো দেখে ভালো মাছ চেনার উপায়

মাছের কানকো দেখে টাটকা মাছ চেনার জন্য ভালো একটা পদ্ধতি। যদিওবা মাছের কানকোতে বর্তমানে দোকানিরা রং ব্যবহার করেন। তাই আপনার উচিত আপনি শুধুমাত্র মাছের কানকো দেখেই মাছ ক্রয় করবেন না। মনে রাখবেন টাটকা মাছের কান দেখতে হবে তাজা রক্তের কালারের এবং মাছটি পিচ্ছিল ও মাছের গায়ে স্লাইমি ভাব থাকবে। 

টাটকা মাছ কিনতে মাছের শরীর দেখুন

মাছের চোখ এবং কানকো দেখার পরে আপনি মাছের শরীর ভালোভাবে দেখে নিন। মাছের শরীর দেখতে কী উজ্জ্বল রূপালি রঙের এবং চকচকে করছে? আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন সুপারশপের মাছ গুলো দেখতে চকচকে রূপালি কালারের পরিবর্তে হলদে, লালচে এবং অন্যান্য রংয়ের আভা দেখা যায় মাছের শরীরে। যদি আপনি এই রকম দেখতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনি বুঝবেন যে মাছটি অনেকদিনের পুরোনো। তাজা মাছ দেখতে চকচক করবে, সময় যাওয়ার সাথে সাথে মাছের চকচকে ভাব একদম ম্লান হয়ে যাবে সেই মাছে যতই ফরমালিন ব্যবহার করা হোক না কেন। 

মাছের গন্ধ শুকে ভালো মাছ চেনার উপায়

তাজা বা ভালো মাছের গন্ধ হবে পানির মতো আর যদি মাছটি হয় সামুদ্রিক তাহলে মাছের গন্ধ হবে সমুদ্রের মতো। আপনি মাছের গন্ধ শসার গন্ধের সাথেও মিল খুঁজে পেতে পারেন। আবার যদি কোনো মাছ থেকে বাজে দুর্গন্ধ চলে আছে, তবে সেই মাছটি নিঃসন্দেহে তাজা বা টাটকা মাছ নয়। কিন্ত মনে রাখবেন চিংড়ি মাছের ক্ষেত্রে কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা পদ্ধতি। চিংড়ি মাছের খোসা যদি শক্ত এবং ক্রিসপি হয়ে থাকে তবে চিংড়ি মাছটি টাটকা বা তাজা মাছ। আর যদি চিংড়ি মাছের খোসা নরম এবং নেতিয়ে পড়ার মতো হয়ে থাকে তাহলে মনে করবেন চিংড়ি মাছটি ভালো নয়। 

অথবা যদি আপনি সুপারশপে আগে থেকেই কাটা মাছ কিংবা ফিশ ফিলে ক্রয় করতে চান? তাহলে আপনি সেই কেটে রাখা মাছের রঙ লক্ষ্য করুন। টাটকা বা তাজা মাছের মাংস হবে উজ্জ্বল কালারের। রঙ যতই বিবর্ণ মাছটি তত পচা। আপনি কি বাজারে কাটা ভাগা দেয়া মাছ কিনতে চান? তাহলে ভালোভাবে মাছের দিকে খেয়াল করবেন যে মাছের চারপাঁশে কোনো সাদা অথবা ফ্যাকাশে রংয়ের পানি আছে কি-না। যদি আপনি এরকম দেখতে পান, তাহলে বুঝে নিবেন মাছটি ভালো না। কেননা টাটকা বা ভালো মাছের চারপাশে থাকবে স্বচ্ছ পানি। 

জিয়ল মাছ কিনতে যা জানা প্রয়োজন

মাগুর মাছ, শিং মাছ, শোল মাছ ইত্যাদি ক্রয় করতে সাবধান থাকুন। বর্তমান সময়ে দোকানিরা মৃত জিয়ল মাছগুলোকে টাটকা না তাজা মাছ বলে ক্রেতাদের হাতে ধরিয়ে দেয়। জিয়ল মাছগুলো  যদি ট্রের মাঝে ছটফট করতে থাকে তাহলে আপনার উচিত সেই মাছটি কিনুন। পূর্বে থেকেই বাহির করে ট্রেতে সাজিয়ে রাখা মাছ কেনা উচিত না।

Read more

কালোজিরার ঔষধি গুণ | কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা

কালোজিরার ঔষধি গুণঃ নামে জিরা হলেও আসলে কিন্তু স্বাদে ও গন্ধে জিরার সঙ্গে কালো জিরার কোনো মিল নেই। আর ব্যবহারও কিন্ত জিরার মতো না। ইংরেজিতে কালোজিরাকে “Nijella Seed” বলা হয়। বাঙালির পাঁচফোড়ন থেকে শুরু করে সিঙ্গারা আরো নানান ধরনের ভর্তায় কালোজিরার ব্যবহার না হলে কি হয়? ইউনানি, আয়ুর্বেদিক এবং কবিজারি চিকিৎসাক্ষেত্রে কালোজিরার ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। 

মসলা হিসেবেও কালো জিরার চাহিদা ব্যাপক। কালো জিরার বীজ থেকে তেল পাওয়া যায় যা মানব দেহের জন্যে খুবি উপকারি। কালো জিরাতে আছে ফসফেট, লৌহ, ফসফরাস। এছাড়া কালো জিরাতে আছে ক্যানসার প্রতিরোধক কেরটিন, বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধকারী উপাদান ও অম্ল রোগের প্রতিষেধক। কালো জিরার ব্যবহার বিধি নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ

বাধক দোষ

বাধক দোষ হলে মেয়েরা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে, আবার অনেকেই আত্মসুখে তৎপর থাকে, আবার কেউ শূচীবায়ু গ্রস্ত হয়, কারও কারও শরীর স্থূল হয়ে যায় আবার কখনো বা তা হয়না। আবার সবাই যে শুকিয়ে যাবে তেমনটি কিন্ত নয়। কিন্তু মনের উপরে রোগের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। যার কারণে কেউ কেউ কামজ উন্মাদ রোগেও আক্রান্ত হয়ে যায়। আবার বাধক দোষে কোনও কোনও মহিলা জননগ্রন্থির ক্রিয়াশক্তি হারিয়ে ফেলে। সেই সঙ্গে আরও অনেক উপসর্গ এসে জোটে। এক্ষেত্রে কালোজিরা সামান্য পরিমাণে ভেজে নিয়ে গুঁড়ো করে সকালে এবং সন্ধ্যায় ৭৫০ মিলিগ্রাম মাত্রায় খেতে হয় এবং এটা মাসিকেও খেতে হবে। এভাবে ২ থেকে ৩ মাস খাওয়া গেলে রোগের উপশম হবে।

স্তন্যস্বল্পতা

পেটে যদি আমদোষ থাকে অথবা শরীরের রসধাতু শুকাতে থাকে স্তন্যসল্পতা দেখা যায়। এই সময়ে কালোজিরা সামান্য পরিমাণে ভেজে গুঁড়ো করে ৫০০ মিলিগ্রাম হারে ৭ থেকে ৮ চা চামচ দুধের সঙ্গে মিশিয়ে সেই পরিমাণে সকালবেলা এবং বিকাল বেলায় ৭ দিন ধরে খাওয়া গেলে উল্লেখযোগ্য আসানারুপ ফল পাওয়া সম্ভব।

মাসিক ঋতু

যেসকল মহিলা অনিয়মিত কিংবা স্বল্প অথবা অধিক স্রাবের জন্যে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাদের ঋতু হওয়ার ৫-৭ দিন পূর্বে থেকে ৫০০ মিলিগ্রাম করে হাল্কা গরম এমন পানিসহ সকাল এবং বিকেলে খেতে হয়। তারপরেও অসুবিধা হয়ে থাকলে পরপর ২ থেকে ৩ মাস সেভাবে খেতে হবে।

গর্ভাশয়ের দ্বার সঙ্কোচন

প্রসবের পরে কালোজিরার ক্বাথ খাওয়া গেলে গর্ভাশয়ের দ্বার সঙ্কুচিত হয়ে যায় এবং সেই সঙ্গে স্তন্য বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও প্রস্রাবের বাধকতাতে কালোজিরা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। পরিমাণমতো কালোজিরা খাওয়া গেলে প্রস্রাব ক্লিয়ার হয়ে যাবে। সন্তান প্রসবের সময়ে কালোজিরা পানিতে সিদ্ধ করে খাওয়া গেলে সন্তানের প্রসব দ্রুততার সাথে হয়।

কক্টরজ ও ঋতুরোধ

স্বল্প মাত্রায় কালোজিরা মেয়েদের ঋতুস্রাব বৃদ্ধি করে, কষ্টরজ এবং ঋতুরোধ অসুখ ভালো করে। তবে বেশি পরিমাণে কালোজিরা খেলে গর্ভস্রাব হয়।

মাথায় যন্ত্রণা

কাঁচা সর্দি হয়ে মাথা যন্ত্রণা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কালোজিরা পুঁটলিতে বেধে দিয়ে শুঁকতে হবে। তবে হা পুঁটলিতে নেয়ার পূর্বে তা রগড়ে নিতে হবে। তাতে গন্ধ বাহির হয় ও উপকার হয়। তাছাড়াও সির্কাতে ভিজিয়ে শুঁকলে মাথাব্যথা ভালো হয়। মাথায় সর্দি বসা। এই অবস্থায় কালোজিরা বেটে কপালের মাঝে প্রলেপ দিলে এবং মিহি গুঁড়োর নস্যি নিলে উপকার পাওয়া যায়। 

নতুন সর্দি থাকা অবস্থায় কালোজিরার নস্যি নিলে উপকার হয়। গলা ফোলাতে কালোজিরা ভালো উপকারী। সর্দি-কাশির দোষে গ্লান্ড ফুলেছে সেই ক্ষেত্রে কালোজিরা, চাউল পোড়া, মুসাববর সমান পরিমানে নিয়ে বেটে প্রলেপ দিলে ১ দিনের মাঝে ফোলা এবং ব্যথা উভয়ই ভালো হবে। দাঁতের ব্যথায় গরম পানির মাঝে কালোজিরা দিয়ে তা দিয়ে কুলি করলে দাঁতের ব্যাথার উপশম হয়।

চুলকানি

কালোজিরার ভাজা তেল গায়ে মাখলে চুলকানির সমস্যা থেকে উপকার মেলে। এতে ১০০ গ্রাম সরিষার তেলে ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম করে কালোজিরা ভেজে সেই তেল ছেঁকে নিয়ে ব্যবহার করুন।

বিছের হুলের জ্বালাঃ  কালোজিরা বেটে সেটা সেখানে লাগালে অল্প সময়ের মধ্যে হুলের জ্বালা কমতে থাকে।

শোথঃ পানিতে কালোজিরাকে বেটে নিয়ে সেগুলোকে প্রলেপ দিলে হাত এবং পা ফোলাসহ সকল ধরনের শোথ ভালো হয়ে যায়।

দাদঃ কালোজিরা বেটে সেগুলো দিয়ে প্রলেপ দিলে এসকলের উপকার হয়। তাছাড়া উপরে উল্লিখিত চুলকানির নিয়মে ব্যবহার করতে পারলে আরও ভালো হয়।

ধবলঃ কালো জিরা বেটে প্রলেপ দিয়ে দিলে এসকলের উপকার হয়। তাছাড়া উপরে উল্লেখিত চুলকানির নিয়মে দিতে পারলে আরও ভালো হয়। 

নতুন চুল গজানোঃ কালোজিরা বেটে নিয়ে মাথায় অনেক দিন ধরে মালিশ করার ফলে নতুন চুল গজায়।

লাবণ্যঃ ঘিয়ের সঙ্গে কালোজিরা মিশিয়ে খেলে মুখ উজ্জ্বল হয় এবং রং ফর্সা হয়।

কৃমিঃ ভিনেগারের সাথে ভিজিয়ে কালোজিরা খাওয়ার কারণে কৃমি নষ্ট হয়।

স্মৃতিভ্রংশঃ স্মৃতিভ্রংশ এবং স্মরণশক্তির দুর্বলতায় কালোজিরা খুবই কার্যকর। ৩ গ্রাম কালোজিরা ২০ মিলিলিটার বিশুদ্ধ মধুসহকারে চাটলে এই রোগ ভালো হয়।

জন্ডিস, শূল ব্যথা,  প্লীহাবৃদ্ধি, বমনেচ্ছা, বুকের ব্যথাঃ কালো জিরা বেটে খাওয়া গেলে এসকল রোগ ভালো হয়ে যায়। সেই সঙ্গে কালােজিরা বাটা গায়েতে মালিশ করতে হবে।

Read more