অ্যাসিডিটি ও গ্যাস সমস্যার জন্য ঘরোয়া সমাধান

অ্যাসিডিটি ও গ্যাস সমস্যার জন্য ঘরোয়া সমাধান — অ্যাসিডিটি ও গ্যাস সম্ভবত মশলার প্রতি আমাদের অবাধ ভালবাসার মতো পুরানো। এটি একটি শব্দ যা পেটের গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিগুলোর দ্বারা অ্যাসিডের অতিরিক্ত উৎপাদন দ্বারা সৃষ্ট লক্ষণগুলোর সংকলনের জন্যে ব্যবহৃত হয়। আমাদের পেট মূলত হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডকে গোপন করে আর যা আমাদের গ্রহণ করা খাবারের ভাঙ্গন ও হজমের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

অ্যাসিডিটি — গ্যাস সমস্যা এবং অম্বল পোড়া জন্য ৭টি প্রাকৃতিক ঘরোয়া সমাধান

আমাদের বেশিরভাগের ক্ষেত্রে অ্যাসিডিটি বেশ বিরল। তবে হ্যাঁ যদি আপনি এক সপ্তাহের মাঝে ২ বারের বেশিবার্ন অনুভব করে থাকেন তবে আপনি হাইপার-অ্যাসিডিটি রোগে ভুগছেন। এটা তখনি ঘটে যখন আপনার পেটের মধ্যে অ্যাসিড, যেটা খাদ্য হজম করে থাকে বলে মনে করা হয়, এটি খাদ্য পাইপে প্রবেশ করতে পারে।

পেটে অতিরিক্ত গ্যাস হওয়ার কারণ | অ্যাসিডিটি হওয়ার কারণ 

অম্লতা বা অ্যাসিডিটি বেশ কয়েকটি কারণে হয় যেমন— খাবারের অনুশাসিত সময়, অনিয়মিত খাদ্যাভাস, স্ট্রেস, ফ্যাড ডায়েট, ধূমপান এবং অ্যালকোহল গ্রহণ করা, শারীরিক ক্রিয়াকলাপের অভাবজনিত কারনেই অম্লতা বা অ্যাসিডিটি ঘটতে পারে। তৈলাক্ত এবং মশলাদার খাবার, বাসি খাবার খাওয়ার ফলে এটিও ট্রিগার হতে পারে।

এসিডিটি থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

নারকেল জল

কোমল নারকেল পানি হচ্ছে প্রকৃতির ENO — একটি আয়ুর্বেদিক ওষুধ যা অ্যাসিডিটি ও গ্যাস সমস্যা থেকে তাৎক্ষনিকভাবে ত্রাণ নিয়ে আসে। এটির প্রাকৃতিক ক্ষারীয় প্রভাব আছে, যা আম্লিক পেটের রসকে ঠান্ডা করে। এমনকি অতিরিক্ত পরিমাণে অ্যাসিড থেকে জ্বালা রোধ করতে এটি পেটের উপরে একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর সংযুক্ত করে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন—ফাইবার সমৃদ্ধ দিনে এক গ্লাস নারকেল পানি সহজে হজমে সাহায্য করে।

আমলা | গ্যাস অম্বলের ওষুধ

বদহজম এবং অ্যাসিডিটি ও গ্যাস জ্বালাপোড়া নিরাময়ের অন্যতম সেরা প্রাকৃতিক সমাধান হচ্ছে আমলা। এটি অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি যৌগগুলোতে সমৃদ্ধ যা পেট ফোলাভাব, কোমলতা এবং পেটে ব্যথা দূর করে। আমলা আমাদের দেহে পিট্টা (তাপ) কমাতে পরিচিত, জ্বলন্ত সংবেদন থেকে মুক্তি প্রদান করে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন—আপনি হয় আমল সিদ্ধ করে রোদ শুকিয়ে নিতে পারেন বা চিবানোর জন্য শুকনো আমলার একটি প্যাক কিনতে পারেন

পেঁপে | এসিডিটি দূর করার উপায়

পেঁপের এনজাইমগুলো জটিল প্রোটিনগুলোকে ভেঙে ফেলার জন্য খুবই কার্যকর। এর মানে হচ্ছে আমাদের দেহগুলোকে এমন সকল খাবারগুলোকে ভেঙে ফেলার জন্যে কম অ্যাসিড তৈরি করতে হবে যা বেদনাদায়ক অ্যাসিডিটি ও গ্যাসকে মুক্তি দেয়।

কিভাবে ব্যবহার করবেন—আপনার প্রাতঃরাশে পাকা পেঁপে অথবা আপনার খাবারে রাতের খাবারের পোষাক হিসেবে যুক্ত করুন।

তুলসী পাতা | অ্যাসিডিটির সমস্যা সমাধানে ঘরোয়া টোটকা

তুলসীতে (তুলসী) সুদৃশ্য বৈশিষ্ট্য আছে যা অ্যাসিডিটি ও গ্যাস থেকে তাৎক্ষনিক উপশম দেয়।

কিভাবে ব্যবহার করবেন—দিনের বেলায় তুলছির কয়েকটি পাতা চিবিয়ে অভ্যাস করুন। বা যদি আপনি এই পদ্ধতি পছন্দ করেন তাহলে কয়েকটি পাতা পানিতে সিদ্ধ করুন আর একটি পবিত্র তুলসী চা দিয়ে অ্যাসিডিটি ও গ্যাস বিদায় জানান।

Read more

ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়াম | ব্যায়ামের মাধ্যমে ডায়াবেটিস কমান

ডায়াবেটিস কমানোর উপায় — বিশ্বে বর্তমানে প্রতি বছর ১০ লাখেরও বেশি ডায়াবেটিস রোগী মারা যাচ্ছে শুধু মাত্র তাদের ডায়বেটিস নিয়ে তাদের উদাসীনতার কারণে। ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়ামে এর মাধ্যমে এসব উদাসীনতা কাটিয়ে উঠা যায়। খাওয়া-দাওয়ায় কন্ট্রোল নিয়ে আসলে পাশাপাশি দৈনন্দিন বদঅভ্যাসগুলো এড়িয়ে চলতে পারলে ডায়াবেটিস রোগ কন্ট্রোলে থাকে পাশাপাশি শরীরও ভালো ও সুস্থ্য থাকে। 

ডায়াবেটিস রোগীর অনেকগুলো ব্যায়াম রয়েছে। তবে বয়স অনুযায়ী একেক জন একেকটা ব্যায়াম করতে পারে।

বর্তমানে চলমান পরিস্থিতিতে ডায়াবেটিস রোগীদের আরো করুণ অবস্থা। করোনা আক্রান্ত ঝুঁকিতে ডায়াবেটিস রোগীরা বেশি রয়েছে। তাই এমতোবস্থায়, যেসব রোগীদের ডায়াবেটিস এর পরিমাণ বেশি বা অনিয়ন্ত্রিত, তাদের মৃত্যু ঝুঁকিও অন্যদের তুলনায় বেশি।

এই সময় খুবই সাবধানতা অবলম্বণ করতে হবে। ঘরের মধ্যে থেকেই সমস্ত রকম ব্যায়াম এবং খাওয়া দাওয়া কন্ট্রোল করে চলতে হবে। যেহেতু বাহিরে যাওয়া বন্ধ তাই ব্যায়ামও প্রায় বন্ধের অবস্থার মতোই। কিন্তু সমস্ত কিছু অর্থাৎ ব্যায়াম এবং খাদ্যভ্যাস যদি নিয়ন্ত্রিত না থাকে তাহলে ডায়াবেটিস বেড়ে যাবে। তাই রোগীদের সুরক্ষার জন্য এমন ‍দূর্যোগপূর্ণ সময়ে আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন কিছু শর্তবলি এবং নিয়ম কানুন দিয়েছেন। আজকে আমরা সেগুলোই জানবো-

ডায়াবেটিস রোগীরা কি ধরনের ব্যায়াম করবে?

স্বাভাবিক অবস্থায় একজন ডায়াবেটিস রোগী কয়েক ধরনের ব্যায়াম করতে পারে। তবে সবচেয়ে বেস্ট হচ্ছে ৪ ধরনের ব্যায়াম করা। এগুলো হলো-

  • ডায়াবেটিস রোগীর অ্যারোবিক ব্যায়াম
  • ডায়াবেটিস রোগীর স্ট্রেংথেনিং ব্যায়াম
  • ডায়াবেটিস রোগীর স্ট্রেসিং ব্যায়াম
  • ডায়াবেটিস রোগীর ব্যালেন্সিং ব্যায়াম

ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়াম | ডায়াবেটিস সারানোর উপায়

১। যেহেতু করোনা কালীন সময়ে আমরা সবাই বাসায় থাকি, তাই প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট রুটিন করুন বাড়িতে ব্যায়াম করার জন্য।

২। অনেকে শহরের ভাড়া বাসা বা মালিকানাধীন বাসায় থাকে। তাদের ক্ষেত্রে, বাসার ছাদে কিংবা সিঁড়িতে হাঁটা বা ব্যায়াম করা যেতে পারে। তবে সেখানেও যদি অধিক লোকসংখ্যা বা মানুষ থাকে, তাহলে সেখানে গিয়ে ব্যায়াম না করাই ভালো।

৩। এমনিতে বিশেষজ্ঞগণ ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন। তবে যেহেতু ঘরেই বন্ধি, তাই সকালে নাস্তা করার পর ১৫ মিনিট ব্যায়াম করা যেতে পারে অথবা হাঁটা যেতে পারে বাসার মধ্যেই। আবার দুপুরের খাবারের পর ১০-১৫ মিনিট ব্যায়াম করা বা হাঁটা যেতে পারে। ঠিক একইভাবে, রাতে খাবার পর শোয়ার ১ ঘন্টা আগে ১৫ মিনিট করে ব্যায়াম বা হাঁটা যেতে পারে।

৪। হাঁটা বা ব্যায়াম শুরু করার আগে ওয়ার্মিং  আপ করলে এবং পরে কুলিং ডাউন করলে শরীর গরম থাকে।

৫। কিন্তু যাদের ক্ষেত্রে চলমান ট্রেডমিল মেশিন কিংবা সাইক্লিং করার প্রযুক্তি বা মেশিন থেকে থাকে, তাহলে সে বাড়িতে থেকেই নিজ বাসায় দৌড়ানোর মতো ব্যায়াম সেরে ফেলতে পাড়েবে। আর সাইক্লিং যদি করে, সেক্ষেত্রে ২০ মিনিট করলেই যথেষ্ঠ।

৬। বাসার শক্ত দেয়াল কিংবা কোনো পিলারকে আপনার বিপরীত দিকে হাত ও পা দিয়ে যথেষ্ট চাপ দিয়ে রাখুন, এই ভাবে কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখুন।

৭। আর যারা কম বয়সী, তারা ইচ্ছা করলে দিনে কয়েকবার লাফ দিতে পারেন। হতে পারে তা ২০০ বা ৩০০ বার।

৮। দেহের প্রতিটি জয়েন্ট কে নাড়াচাড়া করার জন্য ব্যায়াম করতে হবে। হতে পারে সেগুলো কোমর বাঁকা করা, হাত নাড়া, দেহ সামনে ও পিছনে নেওয়া। মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে বেস্ট হচ্ছে দিনে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়া। যা প্রতিটি অস্থিসন্ধিকে নাড়ায় এবং এটি একমাত্র যথেষ্ট ব্যায়াম।

৯। বিশেষ করে এ সময় অবশ্য বাড়ির বাহিরে কিংবা পেছনে হাঁটা নিষেধ।

১০। অনেকে পাবলিক ব্যায়ামাগার, সুইমিং ফুল বা খেলার মাঠে গিয়ে এক্সারসাইজ করে দেহের সুস্বাস্থ্যতার জন্য। করোনা কালীন সময়ে এসব জায়গায় যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

১১। রোজ নিয়মিত ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। তবে অনেকে একটা ভুল করে যে, হঠাৎ একদিন বেশি ব্যায়াম করে কিন্তু পরের ২ দিন আর ব্যায়াম করার সামর্থ্য রাখে না। এই ভুলটা অবশ্যই করা যাবে না। দৈনিক অত্যধিক বেশি ব্যায়াম করা দরকার নেই ডায়াবেটিস রোগীর জন্য। ২০-৪০ মিনিট ব্যায়াম করলেই যথেষ্ট।

১২। যদি কোনো কারণে ডায়াবেটিস রোগী অসুস্থ্য হয়ে পড়ে, তাহলে সেক্ষেত্রে সেই মূহর্তে ব্যায়াম বন্ধ রাখা জরুরি। হতে পারে সেটা জ্বর, বেশি কাশ, ডায়রিয়া ইত্যাদি।

ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়ামের নিয়মাবলি কী কী?

সাধারণত এমনিতে ব্যায়ামের ক্ষেত্রে কোনো রকম নিয়মাবলি নেই তবে ডায়েবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম কানুন মেনে সঠিক উপায়ে ব্যায়াম করতে হয়। যদি কোনো ডায়াবেটিস রোগী পূর্বে কোনো রকম ব্যায়ামের সাথে সম্পর্কিত না থাকে কিন্তু হঠাৎ থেকে ব্যায়াম করতে চায়, সেক্ষেত্রে সে যেন প্রথম অবস্থায় বেশীক্ষণ ব্যায়াম না করে। প্রথম অবস্থায় ৫ মিনিট বা ১০ মিনিট করে ব্যায়াম করে যাবে। সপ্তাহ শেষে ধীরে ধীরে এ টাইম টা বাড়বে।

যেন মাস শেষে ব্যায়ামের টাইমটা হয় ১০০ মিনিট থেকে ১২০ মিনিট। তবে এটাই যে করতে হবে তা কিন্তু নয়, সুবিধা অনুযায়ী সে তার টাইম বাড়াবে।

সপ্তাহে কয়দিন এবং কতদিন ব্যায়াম করবেন?

সপ্তাহে কত দিন একজন ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়াম দরকার বা কতক্ষণ দরকার তার কোনো রকম ধারাবাহিকতা নেই। তবে কেউ যদি প্রথম অবস্থায় মানতে চায়, তাহলে প্রথম অবস্থায় সপ্তাহে ৫ দিন ব্যায়াম করবে এবং প্রথম অবস্থায় ৩০ মিনিটের মত ব্যায়াম করবে। এবং এই টাইমিংটা ধীরে ধীরে বাড়বে।

একজন ডায়াবেটিস রোগী যখন ব্যায়াম শুরু করবে, তখন কী কী আগে থেকেই ঠিক করে নিবেন?

১। স্বাভাবিক অবস্থায় একজন ডায়াবেটিস রোগী যখন ব্যায়ামের জন্য দৌড়াবে তখন অবশ্যই পারিপারশ্বিক চারপাশের দিকে খেয়াল রেখে ব্যায়াম করতে হবে।

২। হাঁটার ব্যায়ামের সময় আরমদায়ক জুতো  পরিধান করতে হবে।

৩। বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে জোরে জোরে লাপানো যাবে না। এতে করে অস্থিসন্ধিতে ব্যাথা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

Read more

প্রবীণদের মানসিক সুস্থতার ৫টি উপায়

বিশ্বব্যাপী আতঙ্কের নাম হচ্ছে নভেল করোনাভাইরাস। এর থেকে রক্ষার কোন কার্যকর উপায় বর্তমানে জানা নেই। প্রতিটি ক্ষেত্রেই এর প্রভাব লক্ষ্যনীয়। …

Read more

নতুন করোনাভাইরাসের ৩ লক্ষণ | করোনাভাইরাসের লক্ষণ ও চিকিৎসা কী

বিগত এক বছর ধরেই করোনাভাইরাস সারাবিশ্বে তাণ্ডবলীলা চালিয়ে আসছে। শুরু হয়েছে করোনা ভাইরাসের ২য় ধাপ। গত বছরের ন্যায় আবারও নতুন করে করোনাভাইরাস এ আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। জ্বর-সর্দি-কাশি এগুলা ছাড়াও করোনার আরও বেশ কয়েকটি প্রাথমিক লক্ষণ রয়েছে। সেই সাথে যুক্ত হয়েছে আরও বেশ কয়েকটি লক্ষণ। এই সকল লক্ষণ গুলি সাধারণ হলেও করোনার প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে।

করোনাভাইরাসের উপসর্গ হিসেবে নাক দিয়ে গন্ধ না পাওয়া এই সমস্যার পাশাপাশি শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, চোখ লালচে হয়ে যাওয়া এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাগুলো সাধারণভাবে মেনে নেওয়া একেবারেই উচিত নয়। সাধারণ কিছু এই সকল সমস্যা হতে পারে করোনাভাইরাস সংক্রমণের নতুন লক্ষণ।

লালচে বা গোলাপি চোখ

গোলাপি চোখ বা কনজেক্টিভাইটিস আইস করোনাভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। যার ফলে চোখ লাল হয়ে ফুলে যেতে পারে এবং চোখ থেকে পানিও বের হতে পারে। যারা করোনাভাইরাসের ২য় ধাপে নতুনভাবে যারা সংক্রমিত হয়েছ তাদের মধ্যে অনেকের চোখে লালচে ভাব লক্ষ্য করা যায়। চোখ লালচে হয়ে ফুলে গেছে এমন কয়েকজনের নাকের সোয়াব পরীক্ষা করে জানা গেছে তাদের মধ্যে বেশির জনই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।

চোখ দিয়েও আমাদের শরীরে করোনাভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। যাদের শরীরে এই করোনাভাইরাস চোখ দিয়ে প্রবেশ করে তাদের চোখে এই রকম লাল হতে পারে। তারপর করোনাভাইরাসটি ফুসফুসে আক্রমণ। করোনাভাইরাস চোখের মধ্যে থাকা অকুলার মিউকাস মেমব্রেনের সাহায্য শরীরে মধ্যে প্রবেশ করে। তবে হ্যাঁ এটি এই ক্ষেত্রে করোনাভাইরাসটি দৃষ্টি শক্তির উপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারে কিনা সেই বিষয়ে আরও বেশি গবেষণা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ মেছতা কেন হয়, মেছতা দূর করার উপায়

শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে

হঠাৎ করে কানে না শোনার সমস্যাকেও এই সময় হেলা ফেলায় নেওয়া যাবে না। কেননা এই হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে যাওয়াই হতে পারে করোনা সংক্রমণের উপসর্গ। একটি পরিক্ষা অনুযায়ী করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে শ্রবণ শক্তি কমতে থাকে পারে। কানের মধ্যে বিরক্তিকর শব্দ হতে পারে শোঁ শোঁ করতে পারে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অনেকের ওপর পরীক্ষা করে এই রকম তথ্য মিলেছে। পরিক্ষা অনুসারে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৭ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের মাঝে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার নমুনা পাওয়া গেছে।

গ্যাস্টিকের সমস্যা

সাধারণত সবার এই কমবেশি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়ে থাকে। বিশেষ করে যারা জাঙ্কফুড বেশি গ্রহণ করে থাকেন। তবে এই সমস্যাকে এখন সাধারণ না ভাবাই হচ্ছে বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ করোনার উপসর্গ হতে পারে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা। গবেষণায় জানা গেছে, ডায়রিয়া ও বমি করোনাভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। করোনায় আক্রান্ত অনেকের শরীরেই লক্ষণটি প্রকাশ পেয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যানুসারে, করোনাভাইরাস শ্বসনতন্ত্রকে প্রভাবিত করে। ফলে কিডনি, যকৃত ও অন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে অনেক বেশি প্রভাব ফেলে এই ভাইরাস।

এজন্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, হজমে সমস্যা এবং ডায়রিয়ার সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এজন্য এসকল সমস্যা সাধারণভাবে গ্রহণ করা উচিত নয়। দীর্ঘমেয়াদী এসকল সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন।

আরও পড়ুনঃ কি কারণে কিডনিতে পাথর হয়

শারীরিক দুর্বলতা ও আলসেমি

করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় শারীরিক দুর্বলতা ও আলসেমিকে। ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রায় সবাই প্রচণ্ড ক্লান্তি ও অবসাদ অনুভব করেন কোনো পরিশ্রম ছাড়াই। এর কারণ হিসেবে চিকিৎসকগণের ধারণা যে ‘সাইটোকাইনস’এর উপস্থিতি। এই উপাদানটি তৈরি হয়ে থাকে শরীরের মধ্যে রোগ প্রতিরোধে ক্ষমতা থেকে কোনো না কোনো জীবাণুকে ধ্বংস করার মাধ্যম হিসেবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যখন সেই জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়তে ব্যস্ত, শরীর তখন ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ে।

Read more

প্রতিদিন সকালে ডিম খাবেন কেন | প্রতিদিন সকালে ডিম খাওয়ার উপকারিতা

ডিম প্রতিদিন খাওয়াই যায়। যারা মনে করেন যে প্রতিদিন ডিম খাওয়া মোটেও ভালো নয়, তাদের চিন্তা ভাবনা কিন্তু অনেকটাই। চিকিৎসকগণ …

Read more

চুলের যত্ন নেওয়ার জন্য কি কি খাওয়া দরকার | চুলের জন্য উপকারী ভিটামিন

আমাদের চুলের যত্ন নেয়ার জন্য আমরা দৈনন্দিন কত কিছুই না ব্যবহার করে থাকি। চুল সুন্দর করে রাখার জন্য আমরা অয়েল ম্যাসাজ, নানা রকমের হেয়ার প্যাক, দামী দামী কত শ্যাম্পু ইত্যাদি চুলে ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু এখন কথা হলো শুধু কি এইসব করলেই হবে? যদি চুল আমাদের শরীর থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টিগুণ না পেয়ে থাকে। তাই আজকের এই আর্টিকেলে আমরা কিছু কিছু খাবারের ব্যাপারে আপনাদের জানিয়ে দিতে চাই যেসকল খাবার গ্রহণ করলে আপনার চুলের যত্নে আসবে পরিপূর্ণতা এবং চুল হবে শক্ত মজবুত-ঝকঝকে ও সুস্থ্য-সবল।

তবে হ্যাঁ আমি কিন্ত পুষ্টিবিদ ন‌ই কিন্তু শরীর সুন্দর সু-স্বাস্থ্যের রাখার জন্য আমার অনেক বেশি আগ্ৰহের কারণে এই সকল কারনে আমি নানা রকম তথ্য সংগ্রহ করে লেখালেখি করি।

চুলের যত্নে রাখার জন্য যে খাবারগুলো গ্রহণ করা দরকার: 

সুষম খাদ্য গ্রহণ করা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। তাছাড়া প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার চুল পড়া রোধে সহায়তা করে। এছাড়াও ভিটামিন-ই যুক্ত খাবার, সামুদ্রিক মাছ, ডিম, দুধ চুলের জন্য অনেক বেশি উপকারী। চুলের যত্ন কিভাবে নিতে হয়, কোন ভিটামিনের অভাবে মাথার চুল পড়ে যায়, চুলের যত্ন নেওয়ার উপায়, চুলের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদান এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা নিম্নে তুলে ধরা হলো।

আরও পড়ুনঃ মাহে রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমল ও রমজানের ফজিলত ২০২১ 

  • প্রোটিন: আমাদের চুল সাধারণত কেরাটিন দিয়ে তৈরি। এটি হচ্ছে অ্যামিনো এসিড দাঁরা গঠিত এক ধরণের প্রোটিন। তাই আপনি যদি চান আপনার মাথায় নতুন চুল গজানো প্রয়োজন তার জন্য অবশ্যই আপনার শরীরকে পর্যাপ্ত অ্যামিনো এসিড সরবরাহ জরুরি বিষয়। চুলের যত্নে খাবার তালিকায় প্রতিদিন মাছ, মাংস, পনির, দুধ, ডিম এগুলোর অন্তত যেকোন একটি রাখার চেষ্টা করুন। এছাড়া রয়েছে দ‌ই, দুধের চেয়েও বেশি প্রোটিনযুক্ত খাবার যেমন, সয়াবিন, ওট, মটরশুঁটি, কলা, কাঁঠাল, বাদাম খাবার থেকে পেতে পারেন। তবে হ্যাঁ নন-ভেজিটেরিয়ান খাবারের মধ্যে প্রোটিনের পরিমাণ তুলনামূলক ভাবে বেশি পরিমাণ থাকে।
  • ভিটামিন সি: চুলের যত্নে আপনি পেয়ারা, লেবু, কমলা, আমলকী, আনারস, কামরাঙা, কাঁচা মরিচে গ্রহণ করতে পারেন। কেননা এই খাবার গুলোতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি। এছাড়া সাইট্রাস জাতীয় যেকোনো ফলমুলে রয়েছে বেশি পরিমানে ভিটামিন সি। যা গ্রহণ করার ফলে আপনার চুলের বৃদ্ধি এবং গজানোর জন্য সাহায্য করে থাকবে।
  • আয়রন আর জিঙ্ক: আয়রন আর জিঙ্ক গ্রহণ করার ফলে মাথার কোষে অক্সিজেন পরিবহন করতে সাহায্য করে। এছাড়াও আর নতুন টিস্যু গঠনে এবং ক্ষয়রোধে সাহায্য করে। পরিমিত পরিমাণে আয়রন আর জিঙ্ক গ্রহণ নতুন এবং খুব তারাতারি চুল গজানোর বা নতুন চুল তৈরির জন্যে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে আয়রন ও জিঙ্ক। মটরশুঁটি, বাদাম, কলিজা, মাংস, দুধের মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ আপনার প্রয়োজনীয় জিংক আর আয়রন।
  • কালোজিরা: ইসলামে বলা হয়েছে যে কালোজিরা সকল রোগের ঔষধ শুধুমাত্র মৃত্যু ব্যাতিত।কালোজিরা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। চুলের জন্য কোন তেল ভালো? চুলের যত্নে আপনি চাইলে মাথায় কালোজিরার তেল এবং খাবারে কালোজিরা ব্যবহার করলে দেখবেন এটি অনেক বেশি ভালো মানের ফল দিচ্ছে।
  • পানি: চুলের যত্নে প্রতিদিন বেশি বেশি পানি পান করুন। বেশি বেশি পানি পান করার ফলে যে আমাদের ত্বক শুধু ভালো থাকবে তা কিন্ত নয়, বেশি বেশি পানি পান করার ফলে আমাদের চুল‌ও থাকবে ঝকঝকে, নতুন ও স্বাস্থ্যোজ্বল।

নিন্মে কয়েকটি খাবারের নাম দেয়া আছে যা চুলের জন্য খুবই উপকারী

গাজর, পাকা টমেটো, আমলকী, কিউই, পালং শাক, অ্যালোভেরা, শসা ইত্যাদি খাবারগুলোর জুস করে আপনি যদি প্রতিনিয়ত গ্রহণ করেন তাহলে আপনার চুল থাকবে প্রাণবন্ত। তাছাড়া এইসকল খাবার আমরা নিয়মিত চিবিয়েও গ্রহণ করতে পারি। এইভাবে যদি আমরা আমাদের খাবারের দিকে লক্ষ্যে রাখি তাহলে আমরা আশা করি মজবুত, সুন্দর, ঝকঝকে, প্রাণোবন্ত চুলের অধিকারী হতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

Read more