কি কারণে কিডনিতে পাথর হয়

কি কারণে কিডনি সমস্যা হয় — বয়স্ক মানুষের মতো শিশুদের হতে পারে কিডনি রোগ। বর্তমানে দেশে ৪০-৫০ লাখ শিশু আছে যারা বিভিন্ন রকমের কিডনি রোগে ভুগছে। বয়স্কদের মতো করে শিশুদেরও কিডনি রোগেরও লক্ষণ প্রায় সেম। করোনা ভাইরাস মহামারির সময়ে শিশুদের কিডনি রোগের ঝুঁকি আছে অনেক বেশি। শিশু বাচ্চাদের কিডনি রোগের লক্ষণসমূহ এবং নানান দিক নিয়েই আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো আজকের এই আর্টিকেলে। 

শিশুদের কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রধান কারণ?

এই বিষয়ে অধ্যাপক ডা. গোলাম মঈন উদ্দিন জানিয়েছেন, সাধারণত জন্মগত অথবা বংশগত কারণে হতে পারে শিশুদের কিডনি রোগ। বংশগত কারণেই কিডনি রোগগুলো শিশু মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থাতেই ধরা পড়ে। তারপরে শিশু জন্মের পরে বেশকিছু লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন- শ্বাসকষ্ট, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া, হাত পা বেকে যাওয়া, শিশুর দেহের বৃদ্ধি না হওয়া, বমি হওয়া, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, ইলেকট্রোলাইটিক ইমব্যালেন্স হওয়া, ফোটা ফোটা প্রস্রাব করা ইত্যাদি।

শিশুদের কিডনি বিকল হয় কেন?

শিশু বাচ্চাদের কিডনি বিকল দুই ধরনের। একটি আকস্মিক অর্থাৎ দ্রুত গতিতে কিডনি বিকল হয়ে যাওয়া। যেটাকে বলা হয়ে থাকে মূলত একিউট কিডনি ইনজুরি। অন্যটি হচ্ছে ধীরগতিতে কিডনি বিকল।

আকস্মিক অথবা দ্রুত গতিতে কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ার কারণ হচ্ছে ডায়রিয়া অথবা বমির কারণে শিশুর যখন ডিহাইড্রেশনে ভোগে, তখনি কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কম হয়ে থাকে। ডিহাইড্রেশনের ফলে শিশুকে যদি ওরস্যালাইন খাওয়ানো না হয় তবে তার কিডনি খুব দ্রুতগতিতে বিকল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যার কারণে প্রস্রাব কমতে থাকে।

ডায়রিয়া অথবা বমির কারণে শরীরের মধ্যে যে ফ্লুইড কমতি হয়, তার কারণে শরীরে কিডনি বিকল হতে থাকে আকস্মিকভাবে। যেকোন ইনফেকশনের ফলে কিডনি বিকল হয়ে যায়। প্রদাহের কারণে কিডনি বিকল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটাও হচ্ছে আকস্মিক কিডনি বিকল। তাছাড়াও বর্ষাকালে মৌমাছি বা সাপের কামড়ের কারণে এই বিষ শরীরে মধ্যে গিয়ে কিডনি বিকল করে দিতে পারে। কিছু কিছু ওষুধের গ্রহণ করার কারণে কিডনি বিকল হতে পারে। প্রস্রাবের রাস্তায় জন্মগতভাবে ত্রুটি থাকলে কিডনি বিকল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আরও পড়ুনঃ মেছতা কেন হয়, মেছতা দূর করার উপায়

কী কারণে কিডনিতে পাথর হয়?

জন্মগতভাবে শরীরে এই ধরনের রোগ হয়ে থাকে। বিশেষ করে আত্মীয়দের মাঝে বিয়ে হলে এই ধরনের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। মূত্রনালীতে ব্লক, স্টেসিস থাকলে কিডনিতে পাথর হবার সম্ভাবনা থাকে।

শিশুরা কিডনি রোগে আক্রান্ত কি-না বুঝবেন কীভাবে?

এক্ষেত্রে লক্ষণীয় উপসর্গগুলো হচ্ছে শিশু ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবের চাপ হ্রাস পাওয়া, হাতে-পায়ে পানি ধরা, প্রস্রাব কমে যাওয়া, পেটে পানি চলে আসা। প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, জ্বর ও বমি বমি ভাব।

ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে মাথাব্যথা, খিচুনি এসকল উপসর্গ দেখা দেয়। তাছাড়াও শিশুদের শরীরে দুর্বলতা, রক্তশূন্যতা, ক্ষুধামন্দা, ওজন কম হওয়া ইত্যাদি এই সকল উপসর্গও দেখা দিতে পারে। এই সব লক্ষণ দেখা দিলে তবে অভিভাবকরা শিশুদেরকে নিয়ে চিকিৎসকের শরণ্যাপন্ন হবেন।

বাংলাদেশে শিশু কিডনি রোগীর সংখ্যা কত?

বর্তমানে দেশে ৪০-৫০ লক্ষ শিশু বিভিন্ন রকমের কিডনির রোগে ভুগছে। শিশুরা জন্মগত অথবা বংশগতভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। জন্মগতভাবে কিডনি রোগগুলো অনেকটাই আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে ধরা পড়ে। জন্মের পরে কিডনি রোগ নেফ্রোটিক সিনড্রোম, প্রস্রাবে ইনফেকশন, ড্রাগের কারণে কিছু ইনফেকশন হয়। এছাড়াও ডিহাইড্রেশন, কিডনি ছোটো হওয়া, ডান বা বাম যেকোনো এক অংশে দুটো কিডনি চলে যাওয়াসহ কিডনির সকল ধরণের রোগ নিয়েই শিশুরা শিশু কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞদের কাছে যায়।

আরও পড়ুনঃ অ্যাসিডিটি ও গ্যাস সমস্যার জন্য ঘরোয়া সমাধান

Read more

ঈদের শুভেচ্ছা এসএমএস

ঈদের শুভেচ্ছা এসএমএস / কোরবানির ঈদের পিকচার কালেকশন — সবাইকে ঈদ উল আযহার অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের এই আর্টিকেল শুরু …

Read more

আম খাওয়ার উপকারিতা

আম খাওয়ার উপকারিতা — মধুমাস মানেই হচ্ছে রসে মাখামাখি করে প্রচুর আম খাওয়ার সময়। গোপালভোগ, হিমসাগর, খিরসাপাতি; ল্যাংড়া নামগুলোতে যেন আমাদের সকলের মনের অর্ধেক প্রশান্তি। তারপরেও যাদের গোপাগপ আম খেতেই হবে, তাদের জন্যে একগাদা কারণ খুঁজে বাহির করেছে বিশেষজ্ঞরা।

অলিম্পিক গেমসের ইতিহাস?

১. ক্যান্সার যোদ্ধা

আইসোকোয়েরসেটিন, কোয়েরসেটিন, অ্যাস্ট্রাগ্যালিন, ফাইসেটিন, গ্যালিক অ্যাসিড এবং মিথাইল গ্যালেট নামের কঠিন নাম ওয়ালা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলো রয়েছে আমের মধ্যে। শরীরের স্তন ক্যান্সার থেকে শুরু করে প্রোস্টেট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার ও লিউকেমিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ এগুলো বেশ কাজের।

২. কোলেস্টেরল ঠিকঠাক

আমের মধ্যে রয়েছে ফাইবার ও প্যাকটিন এবং উচ্চমাত্রার ভিটামিন-সি। এই সকল উপাদান থাকার কারণে রক্তে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা পালন করে থাকে রসালো আম।

৩. ত্বকের জন্য

শরীরের ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন রাখতে সহায়তা করে আম। বিশেষ করে ত্বকের মধ্যে ফুসকুড়ি দূর করতে সাহায্য করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে আম।

৪. অ্যালকালাইন লেভেল

আমের মাঝে রয়েছে টারটারিক অ্যাসিড এবং ম্যালিক অ্যাসিড। আমে আরো রয়েছে সাইট্রিক অ্যাসিড। যা আমাদের শরীরে অ্যালকালি নামের রাসায়নিক এর ভারসাম্যকে সঠিক রাখে।

আরও পড়ুনঃ চুলের যত্ন নেওয়ার জন্য কি কি খাওয়া দরকার

৫. ওজন কমাতে

আমে এতো বেশি পরিমাণে ভিটামিন রয়েছে যে, একটা আম খাওয়ার কারণে শরীরে সারাদিনের ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। আবার আমে ফাইবারও যোগাবে পুষ্টি এবং শক্তি। তাই এই ভরা মৌসুমে যারা শরীরের ওজন কমানোর চিন্তাভাবনা করছেন তারা বার্গার, কোল্ড ড্রিংকস অথবা সাব-স্যান্ডউইচের বিকল্প খাবার হিসাবে বেছে নিন আম।

৬. লাভ ফ্রুট

ইংরেজিতে কঠিন একটি শব্দ রয়েছে আফ্রোডিজিয়াক। এটার বাংলা অর্থ হতে পারে এমন যে, যাহা খাইলে মনের মধ্যে ভালোবাসার উদ্রেক সৃষ্টি হয়। আম কিন্তু ঠিক এমনই এক জাতীয় ফল। সুতরাং মৌসুম থাকতেই প্রিয় মানুষকে বেশি বেশি আম উপহার দিতে পারেন।

৭. চোখের জন্য

এই কথা তোহ ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছেন। আমের মধ্যে থাকা ভিটামিন-এ আমাদের রাতকানা রোগ থেকে বাঁচাবে। যদিওবা এ রোগ এখন আমাদের মাঝে নেই বললেই হয়। তবে হ্যাঁ চোখের স্বাস্থ্যের জন্যে বেশি বেশি আম খেলে কোনো প্রকার ক্ষতি নেই। বিশেষ করে যারা ড্রাই আই সমস্যায় আছেন তারা প্রচুর পরিমাণে আম খেয়ে উপকার পেতে পারেন।

৮. হজমের জন্য

যদি স্বাস্থ্য সুখের মূলে থাকে, তাহলে স্বাস্থ্যের মূলে রয়েছে হজম। আমের মধ্যে থাকা এনজাইমগুলো প্রোটিন উপাদানগুলোকে সহজেই ভেঙে ফেলতে পারে। এতে করে খাবার হজম হয়ে থাকে দ্রুত, বেঁছে যায় পাকস্থলী সংক্রান্ত নানান ধরনের রোগ থেকেও।

৯. হিট স্ট্রোক ঠেকাবে

এই গরম কালে হিট স্ট্রোক হচ্ছে সাধারণ ঘটনা। আম খাওয়ার কারণে আমাদের শরীর থাকে শীতল এবং আম খাওয়ার কারণে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া থেকে শরীরের মাঝে অঙ্গগুলোকে বাঁচায়।

১০. রোগ-প্রতিরোধ

এই করোনাভাইরাস মহামারিতে আম আমাদের শরীরে নানা ধরনের রোগ থেকে বাচতে সাহায্য করবে। কেননা আমের মাঝে থাকা ক্যারোটেনয়েড বাড়িয়ে দেবে আপনার শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকে। সহযোদ্ধা হিসাবে এতে ভিটামিন-সি তো রয়েছে।

১১. মনযোগ ও স্মৃতির জন্য

কোনো কিছুর প্রতি মনোযোগ ধরে রাখতে কষ্ট হলে আম আপনাকে উপকার করবে। মেমরি বুস্টার হিসাবেও কাজ করে এই আম।

১২. বডি স্ক্রাব

ত্বককে খাওয়াতে পারেন আমের নির্যাস। বডি স্ক্রাব হিসাবে পাকা আম বেশ ভালোমানের কাজ করে। আমের পেস্ট তৈরি করে তাকে একটুখানি মধু এবং দুধ মিশিয়ে নিন। ত্বকে আলতো করে ম্যাসাজ করে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন।

আরও পড়ুনঃ গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার উপায়

কতোটা খাবেন?

এতো বেশি উপকারের কথা শুনেই আপনি আম গপাগপ গিলতে যাবেন না। এক কাপ আমের মাঝে আছে ১০০ ক্যালোরি। আর এটির ৯০ ভাগই আসে আমের মধ্যে থাকা চিনি থেকে। সুতরাং যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা আম খাওয়ার পূর্বে পুষ্টিবিদের দেয়া চার্টটিকে একবার ফলো করুন। তবে হ্যাঁ পুষ্টিবিদরা বেশিরভাগ সময় দিনে একটি করে পাকা আমের অর্ধেক অংশ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে।

Read more

কম্পিউটারের জন্য প্রয়োজনীয় ৫টি সফটওয়্যার

কম্পিউটারের জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার — আজকের এই আর্টিকেলে এমন ৫টি কম্পিউটার সফটওয়্যার কে নিয়ে আলোচনা করবো যা আপনার কম্পিউটারের জন্য …

Read more

করোনাভাইরাস সংক্রমণের নতুন উপসর্গ

করোনাভাইরাস সংক্রমণের নতুন উপসর্গ — ঘ্রাণ এবং স্বাদ হারানোর পাশাপাশি শ্রবণ শক্তিতে সমস্যা তৈরি করতে পারে নতুন করোনাভাইরাস। দেড় বছরের বেশি …

Read more

ফেসবুকে যে কাজগুলো করা উচিত নয়

ফেসবুকে যে কাজগুলো করা উচিত নয় — বর্তমান সময়ে আমাদের নিত্যদিনের একটি কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে ফেসবুকের ব্যবহার। কখন কি করছেন, কখন কি খাচ্ছেন সকল কিছুই এখন ফেসবুকে। যেন আমাদের প্রতিটি মুহূর্তকে আপডেট ফেসবুকে শেয়ার না করলে আমাদের ভালো লাগেনা। আর হ্যাঁ এই ফেসবুককে ব্যবহার করতে গিয়েই অনেকেই অনেক সময় লজ্জাজনক অবস্থার সম্মুখীন হন।

আবার কেউ জানেই না যে সে একটু ভুল করে বসে রয়েছে। যা তার ব্যক্তিতের জন্যই খারাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায় যে অনেকেই আছেন যারা এভাবে ছোটো ভুল করে তাদের চাকরি পর্যন্ত হারাচ্ছেন। তাই আপনার যে কাজগুলো ফেসবুকে করবেন না তা নিয়েই মূলত আমাদের আজকের আর্টিকেল।

নিজের ছবি/পোস্টে লাইক দিবেন না

অনেকেই আছেন যারা নতুন স্মার্টফোন কিনে সেই ফোনের ছবি ফেসবুকে আপলোড করেন। যেহেতু আপনি সেই ছবিটি আপলোড করেছেন তার মানে আপনি আসলেই সেই স্মার্ট ফোনটি পছন্দ করেছেন। তাই বলে আপনার আপলোড করা ছবিতেই লাইক, কমেন্ট করে আপনি ফোনটি কতটা পছন্দ করছেন সেটা বুঝাতে হবে তা কিন্ত নয়।

আবার অনেকে মনে করেন যে ছবিতে লাইক দিলে তার ছবিটিকে বেশি বেশি নিউজ ফিডে প্রদর্শন করবে। তাই মূলত এই কাজটি করে থাকেন। আর হ্যাঁ এটিও ভুল। সেই সঙ্গে তারা নিজের মার্কেটিং করছে বলেও অনেকের মনে হয়। তাই আপনার উচিত এই কাজটি না করা, সাধারণত এটি একটি বোকামি ও আপনার ব্যক্তিতের একটি দুর্বলতা।

আরও পড়ুনঃ মোবাইল ব্যাংকিং সুরক্ষায় করণীয়

এলোমেলো ভাবে মানুষকে ট্যাগ করবেন না 

একটি ইমেজ আপলোড করে অথবা একটি আর্টিকেল লিখে এলোমেলো ভাবে অনেককে ট্যাগ করেন? এই ভাবে ট্যাগ করলে হয়বাতো আপনি যাদেরকে ট্যাগ করছেন যার কারণে তারা বিরক্ত হবে। মূলত ট্যাগ বিষয়টি তখনই চলে আসে যখন কোনো ছবিতে আপনি বাদেও অন্য কেউ থাকবে এবং তাদেরকে ট্যাগ করবেন। যেমন কোন জায়গাতে ঘুরতে গিয়েছেন বলে ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার করছেন, সেখানে আপনার সঙ্গে কে কে আছেন তাদেরকে ট্যাগ করা। 

অর্থাৎ সরাসরি যারা সেই পোস্টের সঙ্গে যুক্ত তাদেরকে ট্যাগ করার ফিচারস এটি। বিনা কারণে ফেসবুকে ট্যাগ করে অনেকেই ফেসবুক থেকে ব্লকের শিকার হয়ে থাকেন এবং অনেক সময় দেখা জায় নিজের একাউন্ট স্প্যাম হিসেবে ফেসবুকে রিপোর্ট পেয়ে জায়। তাই ফেসবুক ট্যাগ ফিচারটি বুঝে শুনে ব্যবহার করুন।

অন্যের জন্য অস্বস্তিকর পোস্ট

অনেক সময় অনেকেই আছেন যারা এমন ধরনের ছবি বা পোস্ট করে থাকেন যা তাদের ফ্রেন্ডলিস্টের অনেকের জন্যেই অস্বস্তিকর। উদাহারণ হিসাবে সিগারেট খাওয়ার ছবি বলা চলে। আপনি হয়তোবা ভাবছেন এটা তো আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার কিন্ত আপনাকে হয়তো অনেকেই এতে ব্যাপারটাকে ছোট করেই দেখছে এটার কারণে। যা আপনার ব্যক্তিত্বকে নষ্ট করার জন্যে যথেষ্ট। তবে হ্যাঁ এখানে সিগারেট খাবার ব্যাপারটা উদাহারণ মাত্র। অন্যান্য অনেক কিছুও এটার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

চাকরি নিয়ে অভিযোগ ও তথ্য শেয়ার

আপনি যেখানে কর্তবরত আছেন বা পূর্বের চাকরি নিয়ে কোনো অভিযোগ আছে আপনার এবং সেটা ফেসবুকে পোস্ট করছেন? এটা হয়তোবা আপনার জন্যে ক্ষতির কারণও হয়ে দাঁড়াতে পারে। যেমন- অফিসের সিনিয়র লেভেলের কেউ দেখে তার উপরে ভিত্তি করে অভিযোগ দিতে পারে। যার কারণে চাকরি হারাতে পারেন। আবার আপনি যেখানে চাকরি করছেন সেখানকার সেনসিটিভ তথ্য ফেসবুকে শেয়ার করছেন অথবা চাকরিতে কি করছেন সেটা শেয়ার করেও একি ধরনের সমস্যায় পরতে পারেন। তাই চাকরি নিয়ে কোনো অভিযোগ বা কি করছেন সেটা শেয়ার না করাই উত্তম।

আরও পড়ুনঃ AC কিভাবে কাজ করে? AC কেনার সময় কি কি জানা দরকার?

অন্য ফ্রেন্ডের পোস্ট ছবি শেয়ার

আপনার কোনো বন্ধু বিয়ে করছেন অথবা একটি ছবি আপলোড করছেন? সেখানে আপনি লাইক এবং কমেন্ট করতেই পারেন কিন্তু পোস্টটি শেয়ার করা? বা তাদের প্রোফাইল ইমেজ শেয়ার করা? হয়তোবা এতে আপনি সকলকে বিভ্রান্ত করছেন এবং মূলত আপলোড কারীকেও অস্বস্তিকর অবস্থায় রাখছেন। তাই এ ধরনের কাজগুলো এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

আইডি কার্ড বা পাসপোর্ট

আপনার আইডি কার্ড বা পাসপোর্ট অথবা এই ধরনের কিছু ছবি আপলোড করা থেকে সবস ময় বিরত থাকবেন। যদি শেয়ার করতে হয়, আইডি কার্ডের নাম্বার, জন্ম তারিখ এ ধরনের তথ্যগুলো রিমুভ তারপর আপলোড করুন। নয়তোবা এই তথ্যগুলো হয়তো আপনার একাউন্ট হ্যাক করতেও ব্যবহার করা যেতে পারে। সবথেকে ভালো হয় এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র শেয়ার না করা ভালো এবং শেয়ার করার কোনো কারণও হয়তোবা আপনার নেই তাই এগুলাে এড়িয়ে যাওয়াই উত্তম।

অন্য কারো কথায় কিছু শেয়ার করা

কেউ আপনাকে বলছে কিছু একটা পোস্ট শেয়ার করতে আর আপনি তাই সেই পোস্ট শেয়ার করছেন? এটাও কিন্ত ভুল। হয়তোব তথ্যটি মিথ্যা এবং যে আপনাকে বলছে সে নিজেও সেই বিষয়ে জানে না। তাই না জেনে না বুঝে ভুল তথ্য ছড়ানো কোনো ভাবেই উচিৎ না। খোঁজ খবর নিয়ে ভালো করে জেনে নিয়ে এরপর পোস্টটি শেয়ার করুন। তার আগে নয়। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ফেসবুক টাইমলাইন না মেসেজেও একই ধরনের সমস্যা তৈরি করে থাকেন। তাই সতর্কতা অবলম্বন করে শেয়ার করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ঠিকানা

বাড়ির ঠিকানাকে ফেসবুকে দিয়ে রাখবেন? আপনার বন্ধু বান্ধব বা পরিচিত মানুষরা তো আপনার ঠিকানা জানেই। তবুও কেন ঠিকানা দিয়ে রাখবেন? বরং তাদের জন্যে নয় আপনি হয়তোবা খারাপ মানুষদেরকেই ঠিকানা দিয়ে দিচ্ছেন সেটা কি কখনও ভেবে দেখছেন? তাই কোনো ভাবেই বাড়ির ঠিকানা ফেসবুকে দেওয়া একটি ভুল কাজ। এটাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

তাছাড়াও অনেক কিছুই আছে যা আমরা না জেনে বা বুঝে শেয়ার করি। মোবাইল নম্বর, জন্ম তারিখ, ই-মেইল ইত্যাদি হাইড করে রাখাই ভালো। তাছাড়াও পাসওয়ার্ডের সঙ্গে মিল থাকা যেকোন তথ্য বা পুরাতন পাসওয়ার্ড শেয়ার না করাটাই ভালো। সবসময় জেনে বুঝে শুনে কোনো কিছু শেয়ার করার চেষ্টা করুন।

আরও পড়ুনঃ ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য সেরা ৫টি ওয়েবসাইট

Read more

কিভাবে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠা সম্ভব তার ১০টি উপায়

শরীর সুস্থ থাকার জন্য আমাদের সবথেকে বেশি প্রয়োজন নির্দিষ্ট পরিমাণে ঘুম। একজন মানুষের সারাদিনের কর্মক্ষমতা অনেক টাই নির্ভর করে তার রাতে ঠিকঠাক মতো ঘুম হওয়ার উপরে। একজন মানুষ যদি রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যায় তাহলে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে। তখন তার সারাদিনের কাজ করার জন্য যথেষ্ট সময় পায়। আমরা সকলেই একটা কথা খুব ভালোভাবে জানি “Early To Bed, Early To Rise, Makes a Man Healthy, Wealthy and Wise”।

সকালে ঘুম থেকে উঠার উপকারিতা

আমাদের যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষ তাদের কিছু কিছু অভ্যাসের মাঝে পরিবর্তন করেছে। তার মধ্যে অন্যতম একটি পরিবর্তন হচ্ছে রাতে দেরী করে ঘুমাতে যাওয়া ও তার কারণে দেরীতে ঘুম থেকে উঠা। 

শরীর ও মন ভালো থাকে

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলে আমাদের শরীর এবং মন দুটোই খুব সতেজ থাকে এবং আমরা আমাদের সারাদিনের কাজ করার জন্যে নিজেদের মধ্যে কাজ করার উদ্দীপনা খুঁজে পাই। আমাদের হাতে যত বেশি কাজ থাকে আমরা যদি সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে দেখা যাবে খুব সহজে আমরা সেই কাজ শেষ করে ফেলতে পারবো। 

কাজের চাপ থেকে বাঁচা যায়

আমাদের হাতে যখনি অনেক কাজ থাকে তখন আমরা মানসিক ভাবে এক ধরনের চাপ অনুভব করি আর রাতে ঠিকঠাক মতো ঘুমাতে পারি না এবং আমাদের পরের দিনের শুরুটা ও খারাপ হয়। আমরা যদি সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে কাজগুলো করে ফেলতাম তবে আমরা আমাদের এই মানসিক চাপ থেকে খুবই সহজে মুক্তি পেতে পারি এবং আমাদের দিনটাকে সুন্দরভাবে সাজাতে পারি।

পড়াশোনাতে ভালো করা

যারা সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পড়াশুনা করে দেখা যায় যে তারা অন্যদের তুলনায় অনেক ভালো ফলাফল করে থাকে। আর এটার অন্যতম কারণ হচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম। রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমালে এবং ভোরে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলে আমাদের মস্তিষ্ক বেশ সচল থাকে। আর তখন আমরা কোনো ধরনের চাপ অনুভব না করায় চিন্তামুক্ত ভাবে পড়াশুনা শেষ করতে পারি এবং সেই পড়াগুলো অনেক দিন মনেও রাখা সম্ভব হয়।

মানসিক চাপ কমে

যারা রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে সকালে ঘুম থেকে উঠে তাদেরকে এক প্রকার সুখী মানুষ আমি বলতে পারি।প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন সম্পন্ন করে এবং এতে করে তারা মানসিকভাবে কোনো ধরনের চাপ অনুভব করেনা এবং খুব নিশ্চিন্ত মনে রাতে সহজে ঘুমাতে যেতে পারে এবং জীবনের প্রতিটি দিন জীবনকে উপভোগ করতে পারেন খুবই সুন্দরভাবে। 

সকালের নাস্তা

সকালের নাস্তা আমাদের প্রত্যেকের জন্যে খুবই উপকারী। কারণ যদি আমরা আমাদের সকালের নাস্তা ঠিকঠাক মতো করি তবে আমাদের সারাদিনের কাজ করার জন্য আমরা শারীরিকভাবে শক্তি পাবো এবং এতে করে আমাদের কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। তাই অধিক কর্মক্ষমতা বাড়ানোর জন্যে আমাদের সকালে উঠে নাস্তা করা অতীব প্রয়োজন। 

ব্যায়াম

ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ব্যায়াম। যদি আমরা প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে ব্যয়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলি তাহলে আমাদের শরীর এবং মন উভয়ই সতেজ থাকবে। ব্যয়াম করার কারণে আমরা রাতেও সুন্দর গভীর ঘুম দিতে পারবো। 

বিশুদ্ধ বাতাস

আমাদের এই কোলাহল পূর্ণ নগর জীবনে সতেজ বাতাস পাওয়াটা বর্তমানে খুব একটা সহজ নয়। কিন্তু যদি আমরা সকালবেলা ঘুম থেকে উঠতে পারি তাহলে আমরা কিছুটা হলেও সকালের বিশুদ্ধ বাতাস উপভোগ করতে পারবো আর আমাদের শরীর পেয়ে যাবে বিশুদ্ধ অক্সিজেন।

কিভাবে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠা সম্ভব? 

মানুষ অভ্যাসের দাস। চাইলেই তারা কয়েকদিন একটি কাজ নিয়ম মতো করলে না চাইলে তখন তার সেই কাজের অভ্যাস হয়ে যায়। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠার উপকারিতা সম্পর্কে আমরা সকলেই কম বেশি জানি। কিন্তু তারপরেও আমরা এই সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠাকে আমাদের অভ্যাসে পরিণত করতে পারিনা। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠা কিভাবে সম্ভব সেই বিষয়ে আমরা এখন আলোচনা করব। 

পরিমাণ মতো ঘুম

একজন মানুষের দৈনিক ৮ ঘন্টা সময় ঘুমের প্রয়োজন আছে। ৮ ঘন্টা ঘুমিয়ে সকাল বেলা উঠতে হলে অবশ্যই রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে হবে। যদি আমরা সকালে ৬ থেকে ৭ টায় ঘুমাতে চাই তবে আমাদের রাত ১০ টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়তে হবে। 

রুটিন তৈরি

আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে একটি রুটিনের মাঝে আনলে আমরা খুবই সহজে সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস করতে পারবো। ফজরের নামাজ নিয়মিত পড়ার অভ্যাস করে ফেল্লেই আমরা একটা নামাজ পরা অনুভব করবো এবং তখন নিয়মিত সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠার মাধ্যমে আমাদের দিনটাকে সুন্দরভাবে সাজাতে পারবো। 

মোবাইল, টিভি থেকে দূরে থাকা

আমাদের সব মানুষের একটি অভ্যাস হচ্ছে রাতে ঘুমানোর পূর্বে মোবাইল, ল্যাপটপ, টেলিভিশন দেখার অভ্যাস রয়েছে এটি আমাদের ঘুমের জন্যে অনেক ক্ষতিকর। তাই ঘুমের পূর্বে আমাদের প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে ফেলা উচিৎ আর মোবাইল, ল্যাপটপ, টেলিভিশন দূরে রাখা উচিৎ। এলার্ম দেয়ার সময়ে মোবাইলের পরিবর্তে এলার্ম ক্লক ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিৎ। 

বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা

রাতে ঘুমানোর সময়ে যদি আমারা বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলি তবে তা আমাদের জন্যে অনেক উপকারী। মোবাইল ফোন নয় ঘুমানোর সময়ে হাতে বই নিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস করলে আমাদের জ্ঞানের বিকাশ হবে এবং রাতে তাড়াতাড়ি ঘুম আসবে। 

দুপুরে ঘুমানোর অভ্যাস পরিহার করুন

আপনার যদি দুপুরে ঘুমানোর অভ্যাস থাকে তাহলে সবার আগে সেই অভ্যাস ত্যগ করতে হবে, কেননা দুপুরে ঘুম হলে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুম চলে আসবে না। সকালে ঘুম থেকে উঠার পরে সারাদিন কাজ করার পর শরীর ক্লান্ত হয়ে হয়ে জায় এবং রাতে খুবই ভালো ঘুম হয়।

চা,কফি না খাওয়া

সন্ধ্যার পরে চা বা কফি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং রাতের খাবার ঘুমাতে যাওয়ার ১ থেকে ২ ঘন্টা পূর্বে সেরে ফেলতে হবে। খাওয়ার পরে হাটাহাটি করলে রাতে ঘুম ভালোভাবে হবে।

পরের দিনের কাজের তালিকা তৈরি

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠার জন্যে ঘুমাতে যাওয়ার অনেক আগে পরেরদিন কি কি কাজ করতে হবে তার একটি লিস্ট তৈরি করে রাখা উচিৎ। তাহলে সকাল বেলা থেকে আমাদের কাজ সহজভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

দেরি করে ঘুমাতে না যাওয়া

ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠার জন্যে আমাদের অবশ্যই রাতে তারাতারি ঘুমাতে হবে এমন নয়। যে রাতে ২/৩ টায় ঘুমানোর পরে সকাল বেলা ভোরে উঠে দিন শুরু করবো। এতে আমাদের মেজাজ থাকবে খিটখিটে এবং কোনো কাজে মন বসবে না শরীরের ক্লান্তি অনুভব করবো।

ভালো ফল করার ইচ্ছা

আমাদের যদি পড়াশুনার অনেক চাপ থাকে আর ভালো ফলাফল করার ইচ্ছাশক্তি থাকে তবে আমরা সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে আমাদের পড়াশুনা শেষ করার পাশাপাশি আমাদের অন্যান্য কাজগুলোকেও শেষ করতে পারবো। 

মৃত্যু ঝুঁকি কমানো

রাত জাগা মানুষের মৃত্যু ঝুঁকি একজন ভোরবেলা উঠা মানুষের চাইতে বেশি, একদল গবেষক এটি গবেষণা করে বাহির করছেন তাই আমাদের মৃত্য ঝুঁকি কমানোর জন্যে হলেও আমাদের রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে হবে এবং সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস গড়তে হবে।

তাই সর্বশেষ বলা যায় যে, শরীরকে সুস্থ রাখতে, সারাদিন টাকে কাজে লাগাতে ও নিজেকে সুখী মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার জন্য সকালে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। 

Read more