অ্যাসিডিটি ও গ্যাস সমস্যার জন্য ঘরোয়া সমাধান

অ্যাসিডিটি ও গ্যাস সমস্যার জন্য ঘরোয়া সমাধান — অ্যাসিডিটি ও গ্যাস সম্ভবত মশলার প্রতি আমাদের অবাধ ভালবাসার মতো পুরানো। এটি একটি শব্দ যা পেটের গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিগুলোর দ্বারা অ্যাসিডের অতিরিক্ত উৎপাদন দ্বারা সৃষ্ট লক্ষণগুলোর সংকলনের জন্যে ব্যবহৃত হয়। আমাদের পেট মূলত হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডকে গোপন করে আর যা আমাদের গ্রহণ করা খাবারের ভাঙ্গন ও হজমের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

অ্যাসিডিটি — গ্যাস সমস্যা এবং অম্বল পোড়া জন্য ৭টি প্রাকৃতিক ঘরোয়া সমাধান

আমাদের বেশিরভাগের ক্ষেত্রে অ্যাসিডিটি বেশ বিরল। তবে হ্যাঁ যদি আপনি এক সপ্তাহের মাঝে ২ বারের বেশিবার্ন অনুভব করে থাকেন তবে আপনি হাইপার-অ্যাসিডিটি রোগে ভুগছেন। এটা তখনি ঘটে যখন আপনার পেটের মধ্যে অ্যাসিড, যেটা খাদ্য হজম করে থাকে বলে মনে করা হয়, এটি খাদ্য পাইপে প্রবেশ করতে পারে।

পেটে অতিরিক্ত গ্যাস হওয়ার কারণ | অ্যাসিডিটি হওয়ার কারণ 

অম্লতা বা অ্যাসিডিটি বেশ কয়েকটি কারণে হয় যেমন— খাবারের অনুশাসিত সময়, অনিয়মিত খাদ্যাভাস, স্ট্রেস, ফ্যাড ডায়েট, ধূমপান এবং অ্যালকোহল গ্রহণ করা, শারীরিক ক্রিয়াকলাপের অভাবজনিত কারনেই অম্লতা বা অ্যাসিডিটি ঘটতে পারে। তৈলাক্ত এবং মশলাদার খাবার, বাসি খাবার খাওয়ার ফলে এটিও ট্রিগার হতে পারে।

এসিডিটি থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

নারকেল জল

কোমল নারকেল পানি হচ্ছে প্রকৃতির ENO — একটি আয়ুর্বেদিক ওষুধ যা অ্যাসিডিটি ও গ্যাস সমস্যা থেকে তাৎক্ষনিকভাবে ত্রাণ নিয়ে আসে। এটির প্রাকৃতিক ক্ষারীয় প্রভাব আছে, যা আম্লিক পেটের রসকে ঠান্ডা করে। এমনকি অতিরিক্ত পরিমাণে অ্যাসিড থেকে জ্বালা রোধ করতে এটি পেটের উপরে একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর সংযুক্ত করে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন—ফাইবার সমৃদ্ধ দিনে এক গ্লাস নারকেল পানি সহজে হজমে সাহায্য করে।

আমলা | গ্যাস অম্বলের ওষুধ

বদহজম এবং অ্যাসিডিটি ও গ্যাস জ্বালাপোড়া নিরাময়ের অন্যতম সেরা প্রাকৃতিক সমাধান হচ্ছে আমলা। এটি অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি যৌগগুলোতে সমৃদ্ধ যা পেট ফোলাভাব, কোমলতা এবং পেটে ব্যথা দূর করে। আমলা আমাদের দেহে পিট্টা (তাপ) কমাতে পরিচিত, জ্বলন্ত সংবেদন থেকে মুক্তি প্রদান করে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন—আপনি হয় আমল সিদ্ধ করে রোদ শুকিয়ে নিতে পারেন বা চিবানোর জন্য শুকনো আমলার একটি প্যাক কিনতে পারেন

পেঁপে | এসিডিটি দূর করার উপায়

পেঁপের এনজাইমগুলো জটিল প্রোটিনগুলোকে ভেঙে ফেলার জন্য খুবই কার্যকর। এর মানে হচ্ছে আমাদের দেহগুলোকে এমন সকল খাবারগুলোকে ভেঙে ফেলার জন্যে কম অ্যাসিড তৈরি করতে হবে যা বেদনাদায়ক অ্যাসিডিটি ও গ্যাসকে মুক্তি দেয়।

কিভাবে ব্যবহার করবেন—আপনার প্রাতঃরাশে পাকা পেঁপে অথবা আপনার খাবারে রাতের খাবারের পোষাক হিসেবে যুক্ত করুন।

তুলসী পাতা | অ্যাসিডিটির সমস্যা সমাধানে ঘরোয়া টোটকা

তুলসীতে (তুলসী) সুদৃশ্য বৈশিষ্ট্য আছে যা অ্যাসিডিটি ও গ্যাস থেকে তাৎক্ষনিক উপশম দেয়।

কিভাবে ব্যবহার করবেন—দিনের বেলায় তুলছির কয়েকটি পাতা চিবিয়ে অভ্যাস করুন। বা যদি আপনি এই পদ্ধতি পছন্দ করেন তাহলে কয়েকটি পাতা পানিতে সিদ্ধ করুন আর একটি পবিত্র তুলসী চা দিয়ে অ্যাসিডিটি ও গ্যাস বিদায় জানান।

Read more

ওয়্যারলেস চার্জিং যেভাবে কাজ করে

ওয়্যারলেস চার্জিং যেভাবে কাজ করে — বিদ্যুৎপ্রবাহের ক্ষেত্রে ম্যাগনেটিক বা চৌম্বক অপরিহার্য বস্তু। ইলেকট্রিসিটি ও ম্যাগনেটিককে তাই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ বলা হয়। যখন ইলেকট্রিসিটি প্রবাহিত হয়, তখন ইলেকট্রিক ম্যাগনেটিক অনূভূতি হয়।  ১৯ শতকের শেষের দিকে ইঞ্জিনিয়ারিং মাস্টারমাইন্ড নিকোলা টেসলা প্রথমবার দেখান, যখন ২টি পাওয়ারফুল চৌম্বক একে অপরকে স্পর্শ করে ঠিক তখন উৎস থেকে তাদের মাঝে একটি শক্তি স্থানান্তর হয়ে থাকে।

টেসলারের সেই আবিষ্কার সে সময় খুব সাড়া ফেলে। তবে সবচেয়ে বেশি মাতামাতি হয় তার ১০০ বছর পর এসে। টেসলারের সূত্র ধরে এখন তৈরি হচ্ছে স্মার্টফোনের ওয়্যারলেস চার্জিং প্রযুক্তি। তারের ঝামেলা এড়িয়ে ফোনটিকে চার্জ করতে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এনেছে ওয়্যারলেস চার্জিং প্রযুক্তির ফোন। ওয়্যারেলেস চার্জিং প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও এটি কীভাবে কাজ করে সে প্রক্রিয়াটি আমরা জানি কি? না জানলে চলুন জেনে নিই।

বিদ্যুৎপ্রবাহের ক্ষেত্রে ম্যাগনেটিক বা চৌম্বক অপরিহার্য বস্তু। ইলেকট্রিসিটি ও ম্যাগনেটিককে তাই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ বলা হয়। যখন ইলেকট্রিসিটি প্রবাহিত হয় তখন ইলেকট্রিক ম্যাগনেটিক অনূভূতি হয়। ওয়্যারেলস চার্জিং প্রযুক্তির ফোনের হার্ডওয়্যারে একটি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক কয়েল থাকে; যা কপারের তৈরি। এটি থাকে ফোনটির পিছনের দিকে। একই ধরনের আরেকটি শক্তিশালী কয়েল থাকে ওয়্যারলেস চার্জারের ভেতরে। যেটি ইলেকট্রিসিটির সঙ্গে প্লাগ দিয়ে সংযোগ ঘটানো হয়।

এবার সেই ইলেট্রিক সকেট থেকে কেব্‌লের মাধ্যমে ইলেকট্রিসিটি চার্জারের কয়েলে আসে। চার্জারের কয়েলে তখন ইলেকট্রোম্যাগনেটিক একটা অনূভূতি হতে থাকে। এখন স্মার্টফোনটি অর্থাৎ হার্ডওয়্যারের যে পাশে কয়েলটি থাকে, সেটি যখন চার্জারের সংস্পর্শে আসে তখনি মোবাইল ফোনে চার্জ শুরু হতে থাকে।

ওয়্যারলেস চার্জিং যেভাবে কাজ করে

একটা নিরাপদ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এইভাবে একটি কয়েল থেকে আরেকটি কয়েলে ইলেকট্রিক শক্তি স্থানান্তর হয়। যেখানে স্মার্টফোন চার্জ হওয়ার ক্ষেত্রে কয়েল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকেই মনে করেন, তাহলে তো ওয়্যারলেস চার্জারের কাছাকাছি থাকলেও স্মার্টফোনে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ পৌঁছাবে, আর চার্জ হতে থাকবে! না, সেক্ষেত্রে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ পৌঁছে গেলেও যতক্ষণ পর্যন্ত দুটি কয়েল সংস্পর্শে না আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত চার্জ শুরু হবে না।

কেব্‌ল দিয়ে চার্জ হতে যে পরিমাণ সময় প্রয়োজন হয়, ওয়্যারলেস চার্জারে তার অন্তত দ্বিগুণ সময় প্রয়োজন হয়। তাই প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও খরচ কমাতে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। এমনকি ওয়্যারলেস বললেও কিন্তু এখানে কেব্‌লের প্রয়োজন হচ্ছে। চার্জার কিন্তু ইলেকট্রিসিটির সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে।

অনেকেই এই প্রক্রিয়ায় চার্জিংকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন এবং তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মানেন। কিন্তু সহজ কিছুর জন্য নতুন প্রযুক্তিতে কোনো না কোনো বিষয়ে তো ছাড় দিতেই হবে।

Read more

ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়াম | ব্যায়ামের মাধ্যমে ডায়াবেটিস কমান

ডায়াবেটিস কমানোর উপায় — বিশ্বে বর্তমানে প্রতি বছর ১০ লাখেরও বেশি ডায়াবেটিস রোগী মারা যাচ্ছে শুধু মাত্র তাদের ডায়বেটিস নিয়ে তাদের উদাসীনতার কারণে। ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়ামে এর মাধ্যমে এসব উদাসীনতা কাটিয়ে উঠা যায়। খাওয়া-দাওয়ায় কন্ট্রোল নিয়ে আসলে পাশাপাশি দৈনন্দিন বদঅভ্যাসগুলো এড়িয়ে চলতে পারলে ডায়াবেটিস রোগ কন্ট্রোলে থাকে পাশাপাশি শরীরও ভালো ও সুস্থ্য থাকে। 

ডায়াবেটিস রোগীর অনেকগুলো ব্যায়াম রয়েছে। তবে বয়স অনুযায়ী একেক জন একেকটা ব্যায়াম করতে পারে।

বর্তমানে চলমান পরিস্থিতিতে ডায়াবেটিস রোগীদের আরো করুণ অবস্থা। করোনা আক্রান্ত ঝুঁকিতে ডায়াবেটিস রোগীরা বেশি রয়েছে। তাই এমতোবস্থায়, যেসব রোগীদের ডায়াবেটিস এর পরিমাণ বেশি বা অনিয়ন্ত্রিত, তাদের মৃত্যু ঝুঁকিও অন্যদের তুলনায় বেশি।

এই সময় খুবই সাবধানতা অবলম্বণ করতে হবে। ঘরের মধ্যে থেকেই সমস্ত রকম ব্যায়াম এবং খাওয়া দাওয়া কন্ট্রোল করে চলতে হবে। যেহেতু বাহিরে যাওয়া বন্ধ তাই ব্যায়ামও প্রায় বন্ধের অবস্থার মতোই। কিন্তু সমস্ত কিছু অর্থাৎ ব্যায়াম এবং খাদ্যভ্যাস যদি নিয়ন্ত্রিত না থাকে তাহলে ডায়াবেটিস বেড়ে যাবে। তাই রোগীদের সুরক্ষার জন্য এমন ‍দূর্যোগপূর্ণ সময়ে আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন কিছু শর্তবলি এবং নিয়ম কানুন দিয়েছেন। আজকে আমরা সেগুলোই জানবো-

ডায়াবেটিস রোগীরা কি ধরনের ব্যায়াম করবে?

স্বাভাবিক অবস্থায় একজন ডায়াবেটিস রোগী কয়েক ধরনের ব্যায়াম করতে পারে। তবে সবচেয়ে বেস্ট হচ্ছে ৪ ধরনের ব্যায়াম করা। এগুলো হলো-

  • ডায়াবেটিস রোগীর অ্যারোবিক ব্যায়াম
  • ডায়াবেটিস রোগীর স্ট্রেংথেনিং ব্যায়াম
  • ডায়াবেটিস রোগীর স্ট্রেসিং ব্যায়াম
  • ডায়াবেটিস রোগীর ব্যালেন্সিং ব্যায়াম

ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়াম | ডায়াবেটিস সারানোর উপায়

১। যেহেতু করোনা কালীন সময়ে আমরা সবাই বাসায় থাকি, তাই প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট রুটিন করুন বাড়িতে ব্যায়াম করার জন্য।

২। অনেকে শহরের ভাড়া বাসা বা মালিকানাধীন বাসায় থাকে। তাদের ক্ষেত্রে, বাসার ছাদে কিংবা সিঁড়িতে হাঁটা বা ব্যায়াম করা যেতে পারে। তবে সেখানেও যদি অধিক লোকসংখ্যা বা মানুষ থাকে, তাহলে সেখানে গিয়ে ব্যায়াম না করাই ভালো।

৩। এমনিতে বিশেষজ্ঞগণ ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন। তবে যেহেতু ঘরেই বন্ধি, তাই সকালে নাস্তা করার পর ১৫ মিনিট ব্যায়াম করা যেতে পারে অথবা হাঁটা যেতে পারে বাসার মধ্যেই। আবার দুপুরের খাবারের পর ১০-১৫ মিনিট ব্যায়াম করা বা হাঁটা যেতে পারে। ঠিক একইভাবে, রাতে খাবার পর শোয়ার ১ ঘন্টা আগে ১৫ মিনিট করে ব্যায়াম বা হাঁটা যেতে পারে।

৪। হাঁটা বা ব্যায়াম শুরু করার আগে ওয়ার্মিং  আপ করলে এবং পরে কুলিং ডাউন করলে শরীর গরম থাকে।

৫। কিন্তু যাদের ক্ষেত্রে চলমান ট্রেডমিল মেশিন কিংবা সাইক্লিং করার প্রযুক্তি বা মেশিন থেকে থাকে, তাহলে সে বাড়িতে থেকেই নিজ বাসায় দৌড়ানোর মতো ব্যায়াম সেরে ফেলতে পাড়েবে। আর সাইক্লিং যদি করে, সেক্ষেত্রে ২০ মিনিট করলেই যথেষ্ঠ।

৬। বাসার শক্ত দেয়াল কিংবা কোনো পিলারকে আপনার বিপরীত দিকে হাত ও পা দিয়ে যথেষ্ট চাপ দিয়ে রাখুন, এই ভাবে কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখুন।

৭। আর যারা কম বয়সী, তারা ইচ্ছা করলে দিনে কয়েকবার লাফ দিতে পারেন। হতে পারে তা ২০০ বা ৩০০ বার।

৮। দেহের প্রতিটি জয়েন্ট কে নাড়াচাড়া করার জন্য ব্যায়াম করতে হবে। হতে পারে সেগুলো কোমর বাঁকা করা, হাত নাড়া, দেহ সামনে ও পিছনে নেওয়া। মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে বেস্ট হচ্ছে দিনে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়া। যা প্রতিটি অস্থিসন্ধিকে নাড়ায় এবং এটি একমাত্র যথেষ্ট ব্যায়াম।

৯। বিশেষ করে এ সময় অবশ্য বাড়ির বাহিরে কিংবা পেছনে হাঁটা নিষেধ।

১০। অনেকে পাবলিক ব্যায়ামাগার, সুইমিং ফুল বা খেলার মাঠে গিয়ে এক্সারসাইজ করে দেহের সুস্বাস্থ্যতার জন্য। করোনা কালীন সময়ে এসব জায়গায় যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

১১। রোজ নিয়মিত ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। তবে অনেকে একটা ভুল করে যে, হঠাৎ একদিন বেশি ব্যায়াম করে কিন্তু পরের ২ দিন আর ব্যায়াম করার সামর্থ্য রাখে না। এই ভুলটা অবশ্যই করা যাবে না। দৈনিক অত্যধিক বেশি ব্যায়াম করা দরকার নেই ডায়াবেটিস রোগীর জন্য। ২০-৪০ মিনিট ব্যায়াম করলেই যথেষ্ট।

১২। যদি কোনো কারণে ডায়াবেটিস রোগী অসুস্থ্য হয়ে পড়ে, তাহলে সেক্ষেত্রে সেই মূহর্তে ব্যায়াম বন্ধ রাখা জরুরি। হতে পারে সেটা জ্বর, বেশি কাশ, ডায়রিয়া ইত্যাদি।

ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়ামের নিয়মাবলি কী কী?

সাধারণত এমনিতে ব্যায়ামের ক্ষেত্রে কোনো রকম নিয়মাবলি নেই তবে ডায়েবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম কানুন মেনে সঠিক উপায়ে ব্যায়াম করতে হয়। যদি কোনো ডায়াবেটিস রোগী পূর্বে কোনো রকম ব্যায়ামের সাথে সম্পর্কিত না থাকে কিন্তু হঠাৎ থেকে ব্যায়াম করতে চায়, সেক্ষেত্রে সে যেন প্রথম অবস্থায় বেশীক্ষণ ব্যায়াম না করে। প্রথম অবস্থায় ৫ মিনিট বা ১০ মিনিট করে ব্যায়াম করে যাবে। সপ্তাহ শেষে ধীরে ধীরে এ টাইম টা বাড়বে।

যেন মাস শেষে ব্যায়ামের টাইমটা হয় ১০০ মিনিট থেকে ১২০ মিনিট। তবে এটাই যে করতে হবে তা কিন্তু নয়, সুবিধা অনুযায়ী সে তার টাইম বাড়াবে।

সপ্তাহে কয়দিন এবং কতদিন ব্যায়াম করবেন?

সপ্তাহে কত দিন একজন ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়াম দরকার বা কতক্ষণ দরকার তার কোনো রকম ধারাবাহিকতা নেই। তবে কেউ যদি প্রথম অবস্থায় মানতে চায়, তাহলে প্রথম অবস্থায় সপ্তাহে ৫ দিন ব্যায়াম করবে এবং প্রথম অবস্থায় ৩০ মিনিটের মত ব্যায়াম করবে। এবং এই টাইমিংটা ধীরে ধীরে বাড়বে।

একজন ডায়াবেটিস রোগী যখন ব্যায়াম শুরু করবে, তখন কী কী আগে থেকেই ঠিক করে নিবেন?

১। স্বাভাবিক অবস্থায় একজন ডায়াবেটিস রোগী যখন ব্যায়ামের জন্য দৌড়াবে তখন অবশ্যই পারিপারশ্বিক চারপাশের দিকে খেয়াল রেখে ব্যায়াম করতে হবে।

২। হাঁটার ব্যায়ামের সময় আরমদায়ক জুতো  পরিধান করতে হবে।

৩। বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে জোরে জোরে লাপানো যাবে না। এতে করে অস্থিসন্ধিতে ব্যাথা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

Read more

ব্লগ সাইট খোলার নিয়ম | ফ্রী ব্লগ সাইট তৈরি করে লাখ টাকা ইনকাম করুন

ব্লগ সাইট খোলার নিয়ম — অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করার কথাটা মোটামোটি আমরা প্রায় সকলেই শুনি। এখন যদি আমি বলি আপনিও পারবেন অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে একটি ব্লগ সাইট খুলে বা ব্লগ সাইট তৈরি করার মাধ্যমে! কি আপনার বিশ্বাস হয়?

যদি আপনি লেখালেখি করতে ভালোবাসেন এবং এটাকে যদি খাতা থেকে ওয়েবসাইটের মধ্যে সংরক্ষণ করে জনগনের জন্য পাবলিশ করে দেন তবেই অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করা সম্ভব। আর তার জন্য প্রয়োজন ব্লগ সাইট ওপেন নিয়ম সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা। আমাদের মাঝে অনেকেই আছে যারা প্রতিনিয়ত খাতায় লেখালেখি করেন অথবা আমাদের মাথায় নানা ধরনের আইডিয়া ঘুরপাক খায়, কিন্তু উপযোক্ত কারও কাছে সেই আইডিয়া অথবা লেখাগুলোকে পৌঁছে দিতে পারিনা। আর সেই সুযোগটি দিচ্ছে ফ্রী ব্লগ ওয়েবসাইটগুলো। তারমধ্যে আছে গুগলের ফ্রী ব্লগস্পট সাইট। হ্যাঁ একেই বলে একটি ঢিলে দুই পাখি মারা।

প্রথমত আপনার লেখা অথবা আইডিয়াগুলোকে সঠিকভাবে মানুষের মধ্যে পৌঁছে দিলেন, দ্বিতীয়ত এই কাজ করার মাধ্যমে কিছু টাকা আয় করতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করার জন্যে একজন ব্লগারের বেশ কয়েকটি বিষয় সম্বন্ধে জানা দরকার। তারমধ্যে প্রথম হচ্ছে কীভাবে একটি গুগল ব্লগস্পট অর্থাৎ ব্লগ ওয়েবসাইট বানানো যায়? গুগল ব্লগ সাইট খোলার নিয়ম কি?

আজকের আর্টিকেলে মূলত আমরা এই বিষয়টি নিয়ে জানবো। প্রথমেই জেনে নেই ব্লগস্পট সাইট কীভাবে খুলবো সেই সম্পর্কে।

গুগল ফ্রি ব্লগস্পট সাইট তৈরি করতে বা খোলার জন্য কি কি প্রয়োজন

১। একটি আসল গুগল জিমেইল আইডি
২। ওয়েবসাইটের ডোমেইন নেইম সিলেক্ট
৩। সাইট কাস্টমাইজেশন
৪। সাইটের লোগো
৫। সাইটের ফেবআইকন/আইকন

কীভাবে ব্লগ সাইট তৈরি করা যায় বা ব্লগস্পট সাইট খোলার ধাপসমূহ

১। প্রথমে আপনার কম্পিউটার বা ল্যাপটপের যেকোন একটি ব্রাউজারে চলে যান। এক্ষেত্রে আমি আপনাকে সাজেস্ট করব গুগল ক্রোম ব্রাউজারকে ব্যবহার করার। আপনি চাইলে এই কাজটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে করতে পারবেন।
২। তারপর গুগল ক্রোম ব্রাউজারে আপনার অরজিনাল জিমেইলটি দিয়ে লগ ইন করে নিন। 
৩। জিমেইল একাউন্ট লগিন সম্পন্ন করার পরে ক্রোম ব্রাউজারের ডানসাইটে উপরের দিকে দেখতে পারবেন থ্রিডট মেনু রয়েছে। এবার আপনি সেই থ্রি-ডট মেনুতে ক্লিক করুন।
৪। এবার আপনি দেখুন সেখানে অনেকগুলো মেনু অর্থাৎ অ্যাপস রয়েছে। একটু স্ক্রল করে নিচে দিকে আসুন। দেখতে পারবেন সেখানে Blogger ব্লগার নামে একটি অ্যাপস এর মতো আইকন রয়েছে। সেটাতে ক্লিক করুন।
৫। ক্লিক করার পরে একটি সাইট ওপেন হবে আর সেখানে দেখতে পারবেন লেখা আছে “Create Your Blog”. আপনি এই লেখার উপরে ক্লিক করুন।
৬। ক্লিক করার পরে আপনি দেখতে পারবেন আরেকটি নতুন ট্যাব ওপেন হবে এবং আপনার ব্রাউজারে সাইন ইন অথবা লগিন করা সকল জিমেইল গুলোকে শো করছে। সেখান থেকে আপনি লগিন কৃত জিমেইল টিকে সিলেক্ট করুন।
৭। সিলেক্ট করার পরে কিছুক্ষণ কিছুক্ষণ লোড হয়ে আপনার মেইলের পাসওয়ার্ড চাইবে। যদি আপনি লগিন অবস্থায় থাকেন, তবে অটোমেটিক পাসওয়ার্ডটি সেভ করা থাকবে। আর যদি না হয় তবে নতুন করে পাসওয়ার্ডটি সেখানে দিতে হবে।
৮। পাসওয়ার্ড প্রবেশ করার পরে অথবা পূর্বে থেকে পাসওয়ার্ড প্রবেশ করা থাকলে Next লেখাতে ক্লিক করুন।
৯। তারপর দেখুন আরো একটি নতুন ট্যাব ওপেন হয়েছে এবং সেখানে লেখা আছে “Choose a name for your blog” সেখানে আপনার ব্লগের নামের একটি টাইটেল দিয়ে ‍দিন এবং next অপশনে ক্লিক করুন।
১০। এবার আরেকটি নতুন ট্যাব ওপেন হবে এবং সেখানে লেখা আছে “Choose a URL for your blog” এটি হচ্ছে আপনার ব্লগ ওয়েবসাইটের ডোমেইন নেম। এই নামটি ‍খুবই ভেবে চিন্তে দিবেন। ব্লগ সাইটের নাম লেখা শেষে next করুন।
১১। তারপর আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটের ডিসপ্লে নাম দিতে হবে। যা পরবর্তীতে আপনার সাইটে দেখাবে। “Choose your display name” দেওয়ার পরে এইবার Finish করুন।
১২। ব্যাস আপনার ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করার অথবা ব্লগ সাইট খোলার প্রাথমিক কাজ সম্পূর্ণ।
১৩। তারপর আপনাকে মেইন অথবা গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করার প্রয়োজন হবে।

উপরোক্ত ধাপগুলো সঠিকভাবে মেনে কাজ করলে আপনি নিজেই একটি ব্লগ ওয়েবসাইটের প্রাথমিক কাজগুলো ২ থেকে ৫ মিনিটের মধ্যে করে ফেলতে পারেন। তবে এটি শুধুমাত্র ব্লগসাইট ওপেন করা হবে মাত্র। এইবার ওয়েবসাইটের কাস্টমাজেশন, ওয়েব সাইটের ডোমেইন নাম, ওয়েব সাইটের টাইটেল, সাইটের ডেসক্রিপসন, ওয়েবসাইটের ডিজাইন এবং ভালোভাবে এসইও করতে হবে। এই সকল কাজ করার জন্য আমি আপনাদের জন্য পার্ট বাই পার্ট আর্টিকেল তৈরি বানাবো। আজকে শুধুমাত্র ব্লগ সাইট খোলা বা ব্লগ সাইট তৈরি করার পদ্ধতি এবং সাইটের ডোমেইন নেম সিলেক্ট, টাইটেল ও ডেসক্রিপশন সম্বন্ধে দেখাবো। পাশাপাশি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস দেখানোর চেষ্টা করব।

বিশেষ দ্রষ্টব্য

ব্লগ ওয়েবসাইটের এই ধাপগুলোতে যদি Choose a name for your blog — Choose a URL for your blog — Choose your display name এই অপশনগুলো না আসে তবে নিচের ধাপগুলো ফলো করতে পারেন।

গুগল ব্লগস্পট সাইটের কাস্টমাইজেশন করার ধাপগুলো

১। ব্লগ ওয়েবসাইটের অন্যান্য কাজগুলো করার জন্য আপনাকে আপনার সাইটের সেটিংস অপশনে চলে যেতে হবে। তার জন্য আপনাকে সাইটের ড্যাসবোর্ডের বাম দিকে দেখুন অনেকগুলো অপশন রয়েছে। একটু নিচে স্ক্রল করে সেটিংসে ক্লিক করুন।
২। সেটিংসে ক্লিক করার পরে প্রথম অপশনটাতে অর্থাৎ “Title” লেখাটি। এখানে আপনার ওয়েবসাইট কি সম্পর্কিত অথবা ওয়েব সাইটের নিশের উপরে একটা ছোট স্লোগন অর্থাৎ এক বাক্যে এমন কিছু একটা লিখুন যেটা আপনার সাইটের মূলভাবকে তুলে ধরবে।
৩। টাইটেলের পরের অপশনটাই হচ্ছে ”Description” এখানে আপনি আপনার ওয়েবসাইট সম্পর্কে 500 ওয়ার্ডের মধ্যে কিছু লিখে নিন। এক্ষেত্রে আমি আপনাকে সাজেস্ট করব আগে থেকে সাইট সম্পর্কিত কিছু লিখে রাখুন। যাতে করে ওয়েবসাইট কাস্টোমাইজড করার সময় হিমশিম খেতে না হয়।
৪। তারপর একটু নিচের দিকে স্ক্রল করুন এবং দেখুন Favicon ফেবআইকন নামে একটি অপশন। সেখানে ক্লিক করে ওয়েব সাইটের ফেবিকন অর্থাৎ আইকনটি বসিয়ে দিন।
৫। তারপর আরেকটু নিচের দিকে স্ক্রল করুন। তারপর দেখতে পারবেন
৬। Publishing নামের একটি অপশন রয়েছে এবং তার নিচেই Blog Address নামে একটি অপশন আছে। সেখানে ক্লিক করুন।
৭। এখানে আপনার ব্লগ ওয়েবসাইটের নাম দিন।
৮। তার নিচে দেখুন Customs Domain নামের একটি লেখা রয়েছে। সেখানে ক্লিক করে আপনার অরজিনাল ডোমেইন নামটিকে দিন।
৯। ব্যাস মোটামোটি সাইটের নাম, টাইটেল বা কাস্টমাইজেশনের প্রাথমিক কাজগুলো শেষ।

উপরোক্ত ধাপগুলো অনুসরণ করে যেকেউ ইচ্ছা করলে খুবই সহজে কয়েক মিনিটের মাঝে একটি গুগল ব্লগস্পট ওয়েবসাইট বানানো সম্ভব। তবে হ্যাঁ এই আর্টিকেলে শুধুমাত্র সাইট তৈরি করা এবং প্রাথমিক কিছু কাস্টমাইজেসন বিষয়ে দেখানো হয়েছে। একটি সুন্দর এবং আকর্ষণীয় সাইটের জন্য একটি থিম বা টেমপ্লেট ব্যবহার করা লাগবে এবং তার জন্য লাগবে প্রোপার কাস্টমাইজেশন।

এই বিষয়গুলো আমরা পরবর্তীতে ধাপে ধাপে আলোচনা করবো। আজকের ফ্রী ব্লগসাইট বানানো বা ফ্রি ব্লগ সাইট খোলার এই পর্বে এতোটুকুই।

Read more