ভালো মাছ চেনার উপায়

টাটকা মাছ চেনার উপায় — সকলের কাছে একঘেয়েমি খাবারগুলো খেতে ভালো নাও লাগতে পারে। স্বাদ পরিবর্তন করতে বর্তমানে হাটে বাজারে মাছ ক্রেতারা জমাচ্ছেন ভিড়। তবে হ্যাঁ বাজারে মাছ ক্রয় করার সময় ঠকে গেলে সেটা মোটেও আপনার কাছে ভালো লাগবে না। বর্তমান সময়ে মাছ বিক্রেতারা পঁচা মাছ ক্রেতাদের ব্যাগে গুছিয়ে দেন। কোন মাছ তাজা সেটা না চেনার পারার কারণে ক্রেতাগণ পঁচা, ফরমালিন যুক্ত মাছ ক্রয় করে বাড়ি ফিরেন।

তবে হ্যাঁ মাছে যতই রঙ এবং ফরমালিন দেয়া হোক না কেন, টাটকা এবং ফরমালিন মুক্ত মাছ চেনার জন্য আছে দারুণ কিছু কৌশল। যে সকল বিষয় জানা থাকলে আপনি খুবই সহজেই বাজার থেকে তাজা মাছ ক্রয় করে বাড়িতে আনতে পারবেন। এতে করে আপনাকে আর বাজার থেকে মাছ কিনে ঠকে আসার আর কোনো রকম ভয় থাকবেনা। তো চলুন তাহলে ভালো মাছ চেনার উপায় কিংবা তাজা মাছ চেনার উপায় সম্পর্কে জেনে নেইঃ 

ফরমালিন যুক্ত মাছ চেনার উপায়

ফরমালিন যুক্ত মাছের মাংস পঁচে যায়না ঠিকই, কিন্তু মাছের চোখের জীবন্ত ভাব নষ্ট হয়ে যাওয়া কিন্ত ঠেকানো সম্ভব হয়না। টাটকা মাছের চোখ দেখতে সবসময় স্বচ্ছ পরিস্কার হবে। টাটকা মাছের চোখ একদম ঝকঝকে হবে, দেখলেই মনে হবে যে মাছটি জীবন্ত। সময়ের সাথে সাথে মাছের এই চোখ ঘোলাটে অর্থাৎ মৃত হয়ে আসে। যতবেশি সময় যায় চোখ তত দ্রুত নিষ্প্রাণ হয়। তাই আপনি মাছের চোখ দেখলেই চিনতে পারবেন কোনটি তাজা মাছ। 

তাজা মাছ চেনার উপায়

তাজা মাছ দেখতে হবে বাউন্সি। টাটকা তাজা মাছ কখনোই শক্ত হবেনা, আবার তাজা মাছ নরমও কিন্ত হবেনা। যদি আপনি মাছের উপরে আঙ্গুল দিয়ে চাপ দেন তাহলে যদি দেখতে পান যে মাছটি একদম শক্ত আছে, তাহলে আপনি বুঝে নিবেন যে সেই মাছটি ফ্রিজে রাখা হয়েছিল। আর যদি মাছের পেটে আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিলে পেট নরম হয়ে যায় ভেতরে, তাহলে আপনি বুঝে নিবেন যে মাছটি তাজা অর্থাৎ মাছটি টাটকা না। তাজা মাছ বা টাটকা মাছের পেটে যখন আপনি আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিবেন তখন মাছের পেট দেবে যাবে ঠিকই, কিন্তু আবার আপনি যখন আঙ্গুল সরে নিবেন তখন জায়গাটা আবার ঠিক হয়ে যাবে। 

কানকো দেখে ভালো মাছ চেনার উপায়

মাছের কানকো দেখে টাটকা মাছ চেনার জন্য ভালো একটা পদ্ধতি। যদিওবা মাছের কানকোতে বর্তমানে দোকানিরা রং ব্যবহার করেন। তাই আপনার উচিত আপনি শুধুমাত্র মাছের কানকো দেখেই মাছ ক্রয় করবেন না। মনে রাখবেন টাটকা মাছের কান দেখতে হবে তাজা রক্তের কালারের এবং মাছটি পিচ্ছিল ও মাছের গায়ে স্লাইমি ভাব থাকবে। 

টাটকা মাছ কিনতে মাছের শরীর দেখুন

মাছের চোখ এবং কানকো দেখার পরে আপনি মাছের শরীর ভালোভাবে দেখে নিন। মাছের শরীর দেখতে কী উজ্জ্বল রূপালি রঙের এবং চকচকে করছে? আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন সুপারশপের মাছ গুলো দেখতে চকচকে রূপালি কালারের পরিবর্তে হলদে, লালচে এবং অন্যান্য রংয়ের আভা দেখা যায় মাছের শরীরে। যদি আপনি এই রকম দেখতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনি বুঝবেন যে মাছটি অনেকদিনের পুরোনো। তাজা মাছ দেখতে চকচক করবে, সময় যাওয়ার সাথে সাথে মাছের চকচকে ভাব একদম ম্লান হয়ে যাবে সেই মাছে যতই ফরমালিন ব্যবহার করা হোক না কেন। 

মাছের গন্ধ শুকে ভালো মাছ চেনার উপায়

তাজা বা ভালো মাছের গন্ধ হবে পানির মতো আর যদি মাছটি হয় সামুদ্রিক তাহলে মাছের গন্ধ হবে সমুদ্রের মতো। আপনি মাছের গন্ধ শসার গন্ধের সাথেও মিল খুঁজে পেতে পারেন। আবার যদি কোনো মাছ থেকে বাজে দুর্গন্ধ চলে আছে, তবে সেই মাছটি নিঃসন্দেহে তাজা বা টাটকা মাছ নয়। কিন্ত মনে রাখবেন চিংড়ি মাছের ক্ষেত্রে কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা পদ্ধতি। চিংড়ি মাছের খোসা যদি শক্ত এবং ক্রিসপি হয়ে থাকে তবে চিংড়ি মাছটি টাটকা বা তাজা মাছ। আর যদি চিংড়ি মাছের খোসা নরম এবং নেতিয়ে পড়ার মতো হয়ে থাকে তাহলে মনে করবেন চিংড়ি মাছটি ভালো নয়। 

অথবা যদি আপনি সুপারশপে আগে থেকেই কাটা মাছ কিংবা ফিশ ফিলে ক্রয় করতে চান? তাহলে আপনি সেই কেটে রাখা মাছের রঙ লক্ষ্য করুন। টাটকা বা তাজা মাছের মাংস হবে উজ্জ্বল কালারের। রঙ যতই বিবর্ণ মাছটি তত পচা। আপনি কি বাজারে কাটা ভাগা দেয়া মাছ কিনতে চান? তাহলে ভালোভাবে মাছের দিকে খেয়াল করবেন যে মাছের চারপাঁশে কোনো সাদা অথবা ফ্যাকাশে রংয়ের পানি আছে কি-না। যদি আপনি এরকম দেখতে পান, তাহলে বুঝে নিবেন মাছটি ভালো না। কেননা টাটকা বা ভালো মাছের চারপাশে থাকবে স্বচ্ছ পানি। 

জিয়ল মাছ কিনতে যা জানা প্রয়োজন

মাগুর মাছ, শিং মাছ, শোল মাছ ইত্যাদি ক্রয় করতে সাবধান থাকুন। বর্তমান সময়ে দোকানিরা মৃত জিয়ল মাছগুলোকে টাটকা না তাজা মাছ বলে ক্রেতাদের হাতে ধরিয়ে দেয়। জিয়ল মাছগুলো  যদি ট্রের মাঝে ছটফট করতে থাকে তাহলে আপনার উচিত সেই মাছটি কিনুন। পূর্বে থেকেই বাহির করে ট্রেতে সাজিয়ে রাখা মাছ কেনা উচিত না।

Read more

কালোজিরার ঔষধি গুণ | কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা

কালোজিরার ঔষধি গুণঃ নামে জিরা হলেও আসলে কিন্তু স্বাদে ও গন্ধে জিরার সঙ্গে কালো জিরার কোনো মিল নেই। আর ব্যবহারও কিন্ত জিরার মতো না। ইংরেজিতে কালোজিরাকে “Nijella Seed” বলা হয়। বাঙালির পাঁচফোড়ন থেকে শুরু করে সিঙ্গারা আরো নানান ধরনের ভর্তায় কালোজিরার ব্যবহার না হলে কি হয়? ইউনানি, আয়ুর্বেদিক এবং কবিজারি চিকিৎসাক্ষেত্রে কালোজিরার ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। 

মসলা হিসেবেও কালো জিরার চাহিদা ব্যাপক। কালো জিরার বীজ থেকে তেল পাওয়া যায় যা মানব দেহের জন্যে খুবি উপকারি। কালো জিরাতে আছে ফসফেট, লৌহ, ফসফরাস। এছাড়া কালো জিরাতে আছে ক্যানসার প্রতিরোধক কেরটিন, বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধকারী উপাদান ও অম্ল রোগের প্রতিষেধক। কালো জিরার ব্যবহার বিধি নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ

বাধক দোষ

বাধক দোষ হলে মেয়েরা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে, আবার অনেকেই আত্মসুখে তৎপর থাকে, আবার কেউ শূচীবায়ু গ্রস্ত হয়, কারও কারও শরীর স্থূল হয়ে যায় আবার কখনো বা তা হয়না। আবার সবাই যে শুকিয়ে যাবে তেমনটি কিন্ত নয়। কিন্তু মনের উপরে রোগের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। যার কারণে কেউ কেউ কামজ উন্মাদ রোগেও আক্রান্ত হয়ে যায়। আবার বাধক দোষে কোনও কোনও মহিলা জননগ্রন্থির ক্রিয়াশক্তি হারিয়ে ফেলে। সেই সঙ্গে আরও অনেক উপসর্গ এসে জোটে। এক্ষেত্রে কালোজিরা সামান্য পরিমাণে ভেজে নিয়ে গুঁড়ো করে সকালে এবং সন্ধ্যায় ৭৫০ মিলিগ্রাম মাত্রায় খেতে হয় এবং এটা মাসিকেও খেতে হবে। এভাবে ২ থেকে ৩ মাস খাওয়া গেলে রোগের উপশম হবে।

স্তন্যস্বল্পতা

পেটে যদি আমদোষ থাকে অথবা শরীরের রসধাতু শুকাতে থাকে স্তন্যসল্পতা দেখা যায়। এই সময়ে কালোজিরা সামান্য পরিমাণে ভেজে গুঁড়ো করে ৫০০ মিলিগ্রাম হারে ৭ থেকে ৮ চা চামচ দুধের সঙ্গে মিশিয়ে সেই পরিমাণে সকালবেলা এবং বিকাল বেলায় ৭ দিন ধরে খাওয়া গেলে উল্লেখযোগ্য আসানারুপ ফল পাওয়া সম্ভব।

মাসিক ঋতু

যেসকল মহিলা অনিয়মিত কিংবা স্বল্প অথবা অধিক স্রাবের জন্যে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাদের ঋতু হওয়ার ৫-৭ দিন পূর্বে থেকে ৫০০ মিলিগ্রাম করে হাল্কা গরম এমন পানিসহ সকাল এবং বিকেলে খেতে হয়। তারপরেও অসুবিধা হয়ে থাকলে পরপর ২ থেকে ৩ মাস সেভাবে খেতে হবে।

গর্ভাশয়ের দ্বার সঙ্কোচন

প্রসবের পরে কালোজিরার ক্বাথ খাওয়া গেলে গর্ভাশয়ের দ্বার সঙ্কুচিত হয়ে যায় এবং সেই সঙ্গে স্তন্য বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও প্রস্রাবের বাধকতাতে কালোজিরা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। পরিমাণমতো কালোজিরা খাওয়া গেলে প্রস্রাব ক্লিয়ার হয়ে যাবে। সন্তান প্রসবের সময়ে কালোজিরা পানিতে সিদ্ধ করে খাওয়া গেলে সন্তানের প্রসব দ্রুততার সাথে হয়।

কক্টরজ ও ঋতুরোধ

স্বল্প মাত্রায় কালোজিরা মেয়েদের ঋতুস্রাব বৃদ্ধি করে, কষ্টরজ এবং ঋতুরোধ অসুখ ভালো করে। তবে বেশি পরিমাণে কালোজিরা খেলে গর্ভস্রাব হয়।

মাথায় যন্ত্রণা

কাঁচা সর্দি হয়ে মাথা যন্ত্রণা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কালোজিরা পুঁটলিতে বেধে দিয়ে শুঁকতে হবে। তবে হা পুঁটলিতে নেয়ার পূর্বে তা রগড়ে নিতে হবে। তাতে গন্ধ বাহির হয় ও উপকার হয়। তাছাড়াও সির্কাতে ভিজিয়ে শুঁকলে মাথাব্যথা ভালো হয়। মাথায় সর্দি বসা। এই অবস্থায় কালোজিরা বেটে কপালের মাঝে প্রলেপ দিলে এবং মিহি গুঁড়োর নস্যি নিলে উপকার পাওয়া যায়। 

নতুন সর্দি থাকা অবস্থায় কালোজিরার নস্যি নিলে উপকার হয়। গলা ফোলাতে কালোজিরা ভালো উপকারী। সর্দি-কাশির দোষে গ্লান্ড ফুলেছে সেই ক্ষেত্রে কালোজিরা, চাউল পোড়া, মুসাববর সমান পরিমানে নিয়ে বেটে প্রলেপ দিলে ১ দিনের মাঝে ফোলা এবং ব্যথা উভয়ই ভালো হবে। দাঁতের ব্যথায় গরম পানির মাঝে কালোজিরা দিয়ে তা দিয়ে কুলি করলে দাঁতের ব্যাথার উপশম হয়।

চুলকানি

কালোজিরার ভাজা তেল গায়ে মাখলে চুলকানির সমস্যা থেকে উপকার মেলে। এতে ১০০ গ্রাম সরিষার তেলে ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম করে কালোজিরা ভেজে সেই তেল ছেঁকে নিয়ে ব্যবহার করুন।

বিছের হুলের জ্বালাঃ  কালোজিরা বেটে সেটা সেখানে লাগালে অল্প সময়ের মধ্যে হুলের জ্বালা কমতে থাকে।

শোথঃ পানিতে কালোজিরাকে বেটে নিয়ে সেগুলোকে প্রলেপ দিলে হাত এবং পা ফোলাসহ সকল ধরনের শোথ ভালো হয়ে যায়।

দাদঃ কালোজিরা বেটে সেগুলো দিয়ে প্রলেপ দিলে এসকলের উপকার হয়। তাছাড়া উপরে উল্লিখিত চুলকানির নিয়মে ব্যবহার করতে পারলে আরও ভালো হয়।

ধবলঃ কালো জিরা বেটে প্রলেপ দিয়ে দিলে এসকলের উপকার হয়। তাছাড়া উপরে উল্লেখিত চুলকানির নিয়মে দিতে পারলে আরও ভালো হয়। 

নতুন চুল গজানোঃ কালোজিরা বেটে নিয়ে মাথায় অনেক দিন ধরে মালিশ করার ফলে নতুন চুল গজায়।

লাবণ্যঃ ঘিয়ের সঙ্গে কালোজিরা মিশিয়ে খেলে মুখ উজ্জ্বল হয় এবং রং ফর্সা হয়।

কৃমিঃ ভিনেগারের সাথে ভিজিয়ে কালোজিরা খাওয়ার কারণে কৃমি নষ্ট হয়।

স্মৃতিভ্রংশঃ স্মৃতিভ্রংশ এবং স্মরণশক্তির দুর্বলতায় কালোজিরা খুবই কার্যকর। ৩ গ্রাম কালোজিরা ২০ মিলিলিটার বিশুদ্ধ মধুসহকারে চাটলে এই রোগ ভালো হয়।

জন্ডিস, শূল ব্যথা,  প্লীহাবৃদ্ধি, বমনেচ্ছা, বুকের ব্যথাঃ কালো জিরা বেটে খাওয়া গেলে এসকল রোগ ভালো হয়ে যায়। সেই সঙ্গে কালােজিরা বাটা গায়েতে মালিশ করতে হবে।

Read more

ইন্টারনেট কি | ইন্টারনেট কি ভাবে কাজ করে

ইন্টারনেট কি? ইন্টারনেট কি ভাবে কাজ করেঃ আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং ব্যবহৃত শব্দ হচ্ছে ইন্টারনেট। আজকের দিনে ইন্টারনেট কোথায় নেই? জনসাধারণের ঘরে ঘরে, অফিসে এবং বিভিন্ন কার্যালয়ে ও মোবাইলের মাধ্যমে আমাদের সকলের হাতে হাতে ইন্টারনেট আছে। 

মানুষ এখন অনলাইনের মাধ্যমে ভিডিও, গান, মুভি ইত্যাদি দেখছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনলাইনে গেম খেলছে, একজন অপরের সঙ্গে কথা বলছে, ভিডিও কল করছে। আবার অনেকেই হয়তোবা বিভিন্ন বিষয়ে জানা ও জ্ঞান অর্জন করার জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। সহজ ভাষায় বলতে গেলে ইন্টারনেট পুরো ২৪ ঘন্টায় আপনাকে ব্যস্ত করে রাখতে পারবে।

বর্তমানে মানুষ না খেয়ে থাকতে পারবে না ঘুমিয়ে এবং বিনা বিদ্যুৎ সেবাতে থাকতে পারবে। কিন্তু এই ইন্টারনেট ব্যতীত তো কখনোই থাকতে পারবে না। ইন্টারনেটের এই সুবিধা আমাদের জন্যে একটি অবদান ও ইন্টারনেটের ব্যবহার না করে থাকাটা বর্তমানে আমাদের জন্যে একেবারে প্রায় অসম্ভব। 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে – ইন্টারনেট কি? ইন্টারনেট মানে কি? কিভাবে ইন্টারনেট কাজ করে? ইন্টারনেট ব্যবহার করার লাভ এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা এবং ইন্টারনেট সম্পর্কে আমাদের জানা জরুরি কেন? চলুন তাহলে আজকে এই সকল প্রশ্নের উত্তর বিস্তারিত সম্পর্কে জেনে নেইঃ

ইন্টারনেট কি

ইন্টারনেট কানেক্টেড নেটওয়ার্কের সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে ইন্টারনেট। এটা বিশেষ গেটওয়ে অর্থাৎ রাউটারের মাধ্যমে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক গুলো একে অপরের সঙ্গে সংযোগ করার মাধ্যমে গঠিত হয়ে থাকে। ইন্টারনেটকে প্রায়সই নেট বলা হয়। 

ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের এমন একটি বিশাল জাল যেটা সারা বিশ্বের কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সাথে পরস্পরে ইন্টার কানেক্টেড হয়ে আছে এবং এই কম্পিউটার নেটওয়ার্ক পরস্পর একে আরেকটি ডিভাইসের সাথে বিশ্বব্যাপী (ওয়ার্ল্ড ওয়াইড) ভাবে লিংক করা বা কানেক্ট করার জন্যে ইন্টারনেট প্রোটোকল সুট (TCP/IP) ব্যবহার করেন।

ইন্টারনেট কাকে বলে

ইন্টারনেট হচ্ছে বিশ্বের অফুরন্ত জ্ঞান ভান্ডারকে কম্পিউটারের পর্দাতে তুলে ধরার পদ্ধতি। পরস্পর সম্পর্কযুক্ত অনেকগুলি কম্পিউটার কেন্দ্রিক নিরবিচ্ছিন্নভাবে নেটওয়ার্কের সমষ্টিই হলো ইন্টারনেট।ইন্টারনেট হচ্ছে সারা বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত অনেকগুলো কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সমষ্টি। 

যা জনসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত এবং যেখানে ইন্টারনেট প্রোটোকল নামের এক প্রামাণ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে ডাটা আদান প্রদান করা হয়। তবে অনেকেই ইন্টারনেট এবং World Wide Web কে সমার্থক শব্দ হিসাবে গণ্য করলেও প্রকৃত পক্ষ্যে শব্দদ্বয় ভিন্ন ভিন্ন বিষয় নির্দেশ করে। ইন্টারনেটের বাংলা অর্থ কি? ইন্টারনেটের বাংলা অর্থ হচ্ছে অন্তর্জাল।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব কি

আমাদের অনেকেই ইন্টারনেট বলতে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বলেন। এ দুটি শব্দের বিষয় কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা। আধুনিক টেলি কমিউনিকেশনের একটি নেটওয়ার্ক কিংবা মাধ্যম হচ্ছে টেলিফোন লাইন, স্যাটেলাইট, কেবল, ওয়্যারলেস কানেকশন যেগুলোকে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ব্যবহার করে কম্পিউটার কিংবা অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইস গুলোকে এর সঙ্গে আমাদেরকে কানেক্ট করে।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব হচ্ছে ইন্টারনেটের তথ্য গ্রহণের পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে হাইপার টেক্সট লিঙ্কের মাধ্যমে ইন্টারনেটে থাকা বিভিন্ন ডকুমেন্ট কিংবা ফাইলকে একে অপরের সঙ্গে কানেক্ট হয়ে থাকে। এই হাইপার টেক্সট লিঙ্কের ব্যবহার করে ইন্টারনেট ইউজাররা তাদের প্রয়োজন হিসাবে একটি ডকুমেন্ট বা তথ্যের থেকে আরেকটি ডকুমেন্ট বা তথ্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারেন এবং প্রয়োজন হিসেবে নিজের কম্পিউটার থেকে সেই তথ্য বা ডকুমেন্ট গুলো প্রাপ্ত করতে পারেন। বর্তমানে সব ধরনের কম্পিউটার ডিভাইস যেমন- মডেম, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, স্মার্ট টেলিভিশন এবং আরঅ অন্যান্য ডিভাইস ইন্টারনেটের সঙ্গে কানেক্ট হতে পারে।

Read more

ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে

ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে — আজকের এই আর্টিকেলে আমি যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো তা আপনাদের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। আজকের আর্টিকেলেের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে বিস্তারিত বিষয় সমূহ নিয়ে। যদি আপনি একটি নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করতে আগ্রহী হয়ে থাকেন তবে অবশ্যই এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

ওয়েবসাইট তৈরি করতে কী কী প্রয়োজন

আমি অবশ্যই আপনাকে জানাতে চাচ্ছি যে, যদি আপনি একটি নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তবে আপনার কি কি প্রয়োজন হবে এবং ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগতে পারে। আপনি যদি অবশ্যই এই বিষয়গুলো সম্পূর্ণ ভাবে জানতে আগ্রহী হোন তাহলে আর্টিকেলটি অবশ্যই শেষ পর্যন্ত দেখুন।

ওয়েবসাইট তৈরি করার ধাপসমূহ

একটি নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্যে যে স্টেপগুলো রয়েছে সেই স্টেপসমূহ অবশ্যই আমি আপনার বোঝার সুবিধার্থে নিচে তালিকা আকারে দিয়ে দিবো। অবশ্যই আপনি সেগুলো মার্ক করে নিবেন আর হ্যাঁ নিচে উল্লেখ করা এই সকল স্টেপ আপনার প্রয়োজন হবে।

১। ডোমেইন ও হোস্টিং ক্রয় হবে
২। একটি প্রিমিয়াম থিম ক্রয় করতে হবে
৩। প্রয়োজনীয় প্লাগিন গুলো ক্রয় করতে হবে

ওয়েবসাইট পাবলিশিং করার কারণ কি

এখন আপনাকে জানতে হবে আপনি যে ওয়েবসাইট তৈরি করবেন এবং ওয়েবসাইটটি পাবলিশিং করাটা আপনার প্রয়োজন টা কি। ওয়েবসাইট তো আমরা অবশ্যই বিভিন্ন বিষয়ের উপরে তৈরী করে থাকি। যেমন- অনলাইনে বিজনেস করার জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়ে থাকে এবং নিজের জন্য অর্থাৎ পার্সোনাল একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়ে থাকে আবার কেউ কেউ আছেন যারা টাকা আয় করার জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করে থাকে। একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার পূর্বে অবশ্যই আপনার লক্ষ্যটাকে স্থির রাখতে হবে। আপনি মূলত কোন টাইপের ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান বা কোন বিষয়টি নিয়ে আপনি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন।

ওয়েবসাইটের কাজ কি

এখন আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে যে একটি ওয়েবসাইটের মূলত কাজটি কি। আপনি চাইলে একটি ওয়েবসাইট দিয়ে বিভিন্ন প্রকার কাজগুলোকে করতে পারবেন। আপনি চাইলে এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন থেকে সহজে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি চাইলে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলতে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রোডাক্টগুলো আপনি ওয়েবসাইটে যুক্ত করতে পারবেন। এছাড়াও অনলাইনে আরো বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলো বিভিন্ন ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে তৈরি করা থাকে।

অনলাইনে ওয়েবসাইট

অনলাইনে বিনামূল্য অনেক ধরনের ওয়েবসাইট আছে। যেখান আপনি থেকে খুবই সহজে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। তবে নিজের ইচ্ছা মতো করে ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন না। যদি আপনি প্রফেশনাল মানের একটি ওয়েবসাইট বানাতে চান তবে আপনাকে অবশ্যই ডোমেইন এবং হোষ্টিং এবং আরও যে যে বিষয়গুলো আছে সেগুলো অবশ্যই আপনাকে ক্রয় করতে হবে। অবশ্য তারপরেই আপনি একটি প্রফেশনাল মানের ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন। তবে বিনামূল্য ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্যে অনলাইনে যেসকল সাইটগুলো আছে তারমধ্যে অবশ্য জনপ্রিয় দুটি ওয়েবসাইট হচ্ছে ব্লগস্পট এবং ওয়ার্ডপ্রেস। এই দুটি ওয়েবসাইট ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি এখান থেকে অনলাইনে ওয়েবসাইট তৈরী কররতে পারবেন সহজেই।

১। Blogspot.com
২। WordPress.com

ওয়েবসাইট মনিটাইজেশন

আপনি যদি ওয়েবসাইট মনিটাইজেশন করতে চান তবে আপনাকে কি কি বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে হবে এবং আপনি কিভাবে ওয়েবসাইটটি মনিটাইজেশন করতে পারবেন। অবশ্যই ওয়েবসাইট মনিটাইজেশন করার জন্যে যে ধাপগুলো আছে সেগুলো আমি নিচে তালিকা করে দিচ্ছি সেখানে আপনি দেখে নিন।

১। টপ লেভেল ডোমেইন কিনতে হবে
২। হোস্টিং কিনতে হবে 
৩। প্রিমিয়াম থিম কিনতে হবে/ফ্রি থিম ব্যবহার করে অ্যাডসেন্স পাওয়া যায়
৪। ওয়েবসাইট সুন্দরভাবে ডিজাইন করতে হবে
৫। গুরুত্বপূর্ণ পেজগুলোকে যুক্ত করতে হবে
৬। আপনার ওয়েবসাইটটি গুগলে ইনডেক্স করতে হবে
৭। একটি গুগল অ্যাডসেন্স একাউন্ট তৈরি করতে হবে
৮। আপনার ওয়েবসাইট গুগল অ্যাডসেন্সে জন্য আবেদন করতে হবে

ওয়েবসাইটে গুগল অ্যাডসেন্স পাওয়ার উপায়

যদি আপনি ওয়েবসাইটে গুগল অ্যাডসেন্স পেতে চান তবে আমি উপরোক্ত যে বিষয়গুলো তালিকা আকারে দিয়েছি এগুলো যদি আপনি মনোযোগ সহকারে খেয়াল করেন তবে আপনি খুবই সহজে আপনার ওয়েবসাইটে গুগল অ্যাডসেন্স পেয়ে যাবেন আর মনে রাখবেন গুগল অ্যাডসেন্স পাওয়ার জন্যে উপরোক্ত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মোবাইল দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি

উপরে যে বিষয়গুলো আপনাদের মধ্যে শেয়ার করেছি সেগুলো যদি আপনারা ভালোভাবে লক্ষ্য করেন তাহলে খুবই সহজে আপনি আপনার স্মার্টফোনের মাধ্যমে একটি সুন্দর ডিজাইনের ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্যে যাবতীয় প্রয়োজনীয় যে যে বিষয়গুলো রয়েছে সেগুলো আমি আপনাদের সামনে উল্লেখ করেছি।

ওয়েবসাইট তৈরি কত টাকা খরচ লাগবে

একটি নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্যে আপনার কত টাকা খরচ হবে আমি আপনাকে তার একটি হিসাব করে দিচ্ছি। যদি আপনি ডোমেইন ও হোস্টিং কিনেন সেক্ষেত্রে আপনার ১৩০০ কিংবা ১৮০০ টাকার মতো খরচ পড়তে পারে। তারপর যে প্রিমিয়াম থিম ও প্লাগিনগুলো আছে সেগুলো আপনার কেনার জন্য মোটামুটি ১০০ ডলারের উপরে খরচ লাগতে পারে। তবে এই সকল প্লাগিন ও থিম কিন্তু অনেকের কাছেই কিনতে পাওয়া যায়। 

সেক্ষেত্রে আপনি তাদের কাছে থেকে কম খরচে কিনতে পারবেন। বিশেষ করে যদি আপনি আমাদের থেকে ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে চান তবে ডোমেইন এবং হোস্টিং প্রিমিয়াম থিম সকল কিছু মিলে আপনার ৬ হাজার টাকার মত করে খরচ হতে পারে। আপনি যদি যেকোন ধরনের প্রফেশনালমানের ওয়েবসাইট তৈরী করাতে চান তবে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

সবচেয়ে ভালো ওয়েবসাইট

আপনি যদি সবচেয়ে ভালো একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তাহলে অবশ্যই আমি উপরোক্ত যে বিষয়গুলো আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছি সেগুলো যদি আপনি ভালোভাবে খেয়াল করেন তাহলে খুবই সহজে একটি সবচেয়ে ভালো ওয়েবসাইট তৈরী করতে পারবেন এবং অনলাইন থেকে ভালো পরিমাণ টাকা আয় করতে পারবেন। 

অবশ্যই যদি আপনার এই ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকে তবে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানিয়ে দিবেন। এছাড়াও আপনি এ ধরনের আর্টিকেল সম্পর্কে জানার আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে তা লিখে জানিয়ে দিবেন। আজ এই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ

Read more